“১ বছরের মাথায় ইউটিউবের বিরাট ধাক্কা!”-চ্যানেলে টাকা কামাতে এবার মানতে হবে আরও কড়া নিয়ম

ইউটিউব ক্রিয়েটরদের জন্য সামনের দিনগুলোতে বড়সড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ভিডিও তৈরি করে যাঁরা ইউটিউব থেকে ভালো অঙ্কের অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিয়মাবলীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ থেকে এই নতুন নিয়মগুলি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি, ভিউ গণনা করার প্রক্রিয়াতেও বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের শর্তগুলি আরও কঠোর করা হচ্ছে। বর্তমানে বিজ্ঞাপন বা প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির আয় শুরু করতে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবারের পাশাপাশি বিগত ১২ মাসে ৪,০০০ বৈধ ওয়াচ আওয়ার বা ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউয়ের প্রয়োজন হতো। কিন্তু ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য এই মাপকাঠি দ্বিগুণ করে ৮,০০০ ভেরিফাইড ওয়াচ আওয়ার অথবা ২ কোটি ভেরিফাইড শর্টস ভিউ করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই প্রোগ্রামের পুরনো অংশীদার, তাঁদের উপার্জনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। ফ্যান ফান্ডিং বা চ্যানেল মেম্বারশিপের পুরোনো শর্তগুলি আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে।

শুধু তাই নয়, ভিডিও ভিউ গণনার পদ্ধতিতেও বড়সড় বদল এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে কোনো দর্শক ভিডিওতে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই বা অটো-প্লে মোডে প্রথম ফ্রেমটি প্লে হওয়ার পরেই তা পাবলিক ভিউ হিসেবে গণ্য করা হবে। আগে যেখানে দীর্ঘ ভিডিওর ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ সেকেন্ড দেখার বাধ্যবাধকতা ছিল, নতুন নিয়মে সেই জটিলতা আর থাকছে না। এর ফলে যেকোনো ভিডিওর ভিউ সংখ্যা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেই ইউটিউবের এই নতুন পদক্ষেপ।

তবে ভিউয়ের সংখ্যা রাতারাতি বাড়লেও ক্রিয়েটরদের আসল আয় সরাসরি বাড়বে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইউটিউব। প্রকৃত আয় নির্ধারণের জন্য ব্যাকএন্ডে ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার’ এবং ‘এনগেজড শর্টস ভিউ’ নামক বিশেষ মেট্রিক চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ, দর্শক ভিডিওতে ঠিক কতক্ষণ সময় কাটাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই পকেটে আসবে টাকা। শুধু ক্লিকবেইট বা ভুয়ো ভিউ দিয়ে আর আয় করা সম্ভব হবে না। এর পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে তৈরি একঘেয়ে ও রোবোটিক কনটেন্টের ওপর কঠোর নজরদারি চালাবে ইউটিউব। মানুষের কোনো সৃজনশীল প্রচেষ্টা ছাড়া গণহারে উৎপাদিত এআই ভিডিওগুলি মনিটাইজেশনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না এবং প্রয়োজনে চ্যানেল বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *