পুশব্যাক মামলায় হাইকোর্টের রায়, ‘বাংলা-বিরোধী জমিদাররা নিষ্ঠুর প্রচার চালাচ্ছে’, বিজেপি-কে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি-সহ ছ’জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর বিজেপি’র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশের নির্দেশকে বেআইনি ঘোষণা করে ওই ছয়জনকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।
এক্স-এ ফুঁসে উঠলেন অভিষেক
কলকাতা হাইকোর্টের রায় সামনে আসতেই এক্স (X)-এ পোস্ট করে বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “আজ আইনের দীর্ঘ হাত অবশেষে ন্যায়ের পথে পৌঁছল। হাইকোর্ট জানিয়েছে, দিল্লির এফআরআরও-র (FRRO) আটক ও দেশছাড়া করার নির্দেশ বেআইনি। বীরভূমের গর্ভবতী মহিলা-সহ ছ’জন বাংলাদেশি অভিবাসী বলে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন দিল্লির রোহিণী এলাকা থেকে এই ছয়জন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব দেখিয়ে তাঁদের অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল।
“২০২৬-এ কঠিন জবাব পাবে”
অভিষেক তাঁর মন্তব্যে বিজেপি-কে ‘বাংলা-বিরোধী জমিদার’ বলে উল্লেখ করেন এবং সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন:
“এই রায় প্রমাণ করল বাংলার মানুষকে হয়রানি করার জন্য একটি নিষ্ঠুর ও সুসংগঠিত প্রচার চালাচ্ছে বাংলা-বিরোধী জমিদাররা। দোষীদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আদালতে, জনতার দরবারে এবং আগামী ভোটে।”
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “বাংলার মানুষ বিদেশি-বিদ্বেষ, অপমান কিংবা বঞ্চনার রাজনীতি কোনওভাবেই মেনে নেবে না। ভয় দেখিয়ে যারা রাজনীতি করছে, ২০২৬-এ মানুষের রায়ে তারা কঠিন জবাব পাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে তৃণমূল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে। বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করার ঘটনাকে সামনে এনে শাসকদল বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী’ প্রমাণ করার কৌশল নিয়েছে। এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা— বাংলার মানুষই শেষ কথা বলবে।