রান্নার গ্যাসের e-KYC ডেডলাইন বাড়ল, জেনেনিন এ বার শেষ তারিখ কবে?

দেশের রান্নার গ্যাস বা এলপিজি গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সামনে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে গ্যাস সিলিন্ডারে ই-কেওয়াইসি বা কেওয়াইসি আপডেট করার নির্ধারিত সময়সীমা আরও একবার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পাঠানো বিশেষ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ২৩ অগাস্ট থেকে বাড়িয়ে এই সময়সীমা আগামী ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত আরও সাত দিন সময় হাতে পেলেন, যা ব্যস্ত মানুষের কাছে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এক খবর।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত প্রথম দফায় ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার শেষ দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট ডেডলাইনের পরেও দেখা যায় যে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক বিভিন্ন কারণে নিজেদের কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেননি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তেল সংস্থাগুলি সময়সীমা বাড়িয়ে ২৩ অগাস্ট করেছিল। তবে শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অগাস্টের পরেও প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ তাঁদের কেওয়াইসি করাননি। গ্রাহকদের এই বিপুল অংশের কথা মাথায় রেখেই সময়সীমা আরও একবার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও এই সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কলকাতার একটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সংগঠনের এক দায়িত্বশীল কর্তার অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বারেবারে ই-কেওয়াইসি করার সময়সীমা বাড়ালেও সেই মর্মে কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে না। এর ফলে গ্রাহকরা যখন গ্যাস এজেন্সিতে এসে নোটিফিকেশন বা নির্দেশিকা দেখতে চান, তখন ডিস্ট্রিবিউটররা তা দেখাতে পারেন না। এই ছোট্ট তথ্যের ফাঁকফোকর এবং প্রমাণের অভাবে ডিলার ও গ্রাহকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে এবং অহেতুক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সাধারণ মানুষ কীভাবে ঘরে বসেই এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, সেই নিয়েও বিশদ তথ্য সামনে এসেছে। ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি মূলত অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই করা সম্ভব। অফলাইনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিকটস্থ গ্যাস ডিলার বা এজেন্সির কার্যালয়ে সরাসরি লাইন দিয়ে কাজটি সারতে হয়। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ গ্যাস অফিসেই তীব্র ভিড় এবং দীর্ঘ লাইন পড়ার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই ঝুটঝামেলা এড়াতে অত্যন্ত সহজ পদ্ধতি হিসেবে বাড়িতে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি করার সুবিধা রয়েছে। গ্রাহকরা তাঁদের নিজ নিজ গ্যাস সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে ঘরে বসেই এই ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই ই-কেওয়াইসি না করালে ঠিক কী ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে? এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো কড়া ও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তেল সংস্থাগুলির তরফে গ্রাহকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, যাঁদের কেওয়াইসি করা থাকবে না, তাঁরা ভবিষ্যতে ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালির দরে গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত ভর্তুকির আওতা থেকে বেরিয়ে তাঁদের সম্পূর্ণ বাজার দরে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হতে হবে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যেখানে কলকাতার সাধারণ গ্রাহকরা ৯৭০ টাকায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন, সেখানে কেওয়াইসি না থাকলে তাঁদের পকেট থেকে ১৫০০ টাকারও বেশি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে দ্রুত কেওয়াইসি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।