আত্মসমর্পণ বনাম সশস্ত্র সংগ্রাম, মাওবাদী সংগঠনে চরম গোষ্ঠী কোন্দল! ৩টি চিঠি ঘিরে তোলপাড় তেলেঙ্গানা

তেলেঙ্গানার মাওবাদী (CPI-মাওবাদী) সংগঠনে তীব্র আদর্শিক বিভাজন ও গোষ্ঠী কোন্দল সামনে এল। মাওবাদী সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতার পরস্পর বিরোধী অবস্থানে কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে সংগঠনটি। আত্মসমর্পণের পক্ষে সওয়াল করছেন এক অংশ, অন্যদিকে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড় অন্য অংশ।

তেলেঙ্গানার উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা (Intelligence) সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

যেখানে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
সংগঠনের আদর্শিক প্রধান মাল্লুজুলা ভেনুগোপাল রাও ওরফে সোনু-র আত্মসমর্পণের ইচ্ছা নিয়েই এই দ্বন্দ্বের শুরু। সম্প্রতি সোনু দলের পক্ষে একটি চিঠি লেখেন, যেখানে বলা হয়:

“ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) সাময়িকভাবে আত্মসমর্পণ এবং কেন্দ্রের সাথে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা অস্ত্র ত্যাগ করে মূলধারায় যোগ দিতে প্রস্তুত।

এই আত্মসমর্পণের পক্ষে ছিলেন দলের নিহত প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বাসভরাজু।

সোনুর লেখা এই চিঠিটি গত ১৫ আগস্ট লেখা হলেও, সম্প্রতি ১৭ সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।

পাল্টা চিঠি ও ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ তকমা
সোনুর এই বক্তব্যের পরই মাওবাদী সংগঠনের ভেতর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

১. রাজ্য কমিটির পাল্টা চিঠি: ১৯ সেপ্টেম্বর মাওবাদী দলের তেলেঙ্গানা রাজ্য কমিটি দ্বারা প্রকাশিত দ্বিতীয় চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়, সোনুর চিঠিটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন রাজ্য কমিটির মুখপাত্র জগন।

২. কেন্দ্রীয় কমিটির চরম অবস্থান: এখানেই শেষ নয়। এরপর দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, পলিটব্যুরো এবং দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে আরেকটি তৃতীয় চিঠি লেখা হয়, যেখানে সোনুর অবস্থানকে সরাসরি “রাষ্ট্রদ্রোহ” বলে অভিহিত করা হয়।

তৃতীয় চিঠিতে সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, “শত্রুদের কাছে আত্মসমর্পণ করে মূলধারায় ফিরলে নিপীড়িত জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এটি আমাদের নীতি নয়।”

কোন্দলের কেন্দ্রে দুই শীর্ষ নেতা
সংগঠনে এই বিভাজনের কেন্দ্রে আছেন দুই শীর্ষ নেতা:

আত্মসমর্পণের পক্ষে: আদর্শিক প্রধান মাল্লুজুলা ভেনুগোপাল রাও ওরফে সোনু।

সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে: বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং CPI (মাওবাদী)-এর সশস্ত্র শাখা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রাক্তন প্রধান থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবুজি।

গোয়েন্দা আধিকারিকদের বক্তব্য, বিগত প্রায় এক বছর ধরে সংগঠনের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলছিল। সোনুর স্ত্রী এক বছর আগেই মহারাষ্ট্রে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সেপ্টেম্বরে তাঁর ভাই কিষেনজির স্ত্রীও তেলেঙ্গানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। পরপর প্রকাশিত তিনটি ভিন্নমত পোষণকারী চিঠি মাওবাদী সংগঠনের এই ‘ভিতরের ভাঙন’-কেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।