পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনে স্বস্তি শাসকদলে, কিন্তু গর্জে উঠলেন অধীর চৌধুরী, ‘এ রাজ্যে চোরদের শাস্তি হয় না

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিন পাওয়ায় শাসকদলের অন্দরে স্বস্তি ফিরলেও, তা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বহরমপুরের এই প্রভাবশালী নেতা সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি মন্তব্য করেন, “এই রাজ্যে চোরদের শাস্তি হয় না, কিন্তু যাদের চুরি হল তাদের কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।”
যদিও এই মুহূর্তে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি হচ্ছে না।
অধীরের মন্তব্যে কেন এত শোরগোল?
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অধীর চৌধুরীর মন্তব্যটি নিয়োগ দুর্নীতির মূল অসঙ্গতিকেই তুলে ধরেছে।
চাকরি গেল ২৬,০০০ জনের: ২০১৬ সালের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সামনে আসার পর মামলা হয়। যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা দিতে এসএসসি অপারগ হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬,০০০ শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়। এই চাকরিহারাদের পুলিশের লাঠি খেতে হয়েছে, অনশন করতে হয়েছে।
চোরের শাস্তি নেই: অন্যদিকে, এই দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যার বান্ধবী অর্পিতা মুখার্জীর খাটের তলা থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল— তিনি এখন জামিন পেলেন।
অধীর তাঁর মন্তব্যে বলেন, “যার কারণে এত শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি গেল, তার কোনো শাস্তি হল না।” তিনি আরও বলেন, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সব কিছু জেনেও মুখ বন্ধ করেছিল।
তৃণমূলের স্বীকারোক্তি ও রাজনৈতিক চাপান-উতোর
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরেও গুঞ্জন ছিল। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নিজেই সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার স্বীকার করেছেন, দল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর কার্যকলাপ জানলেও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের খবরে আবারও সরব হয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপি। যদিও পার্থের জামিনকে আইনি প্রক্রিয়া হিসাবে দেখিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনও বড় মন্তব্য করেনি। তবে সামনেই পুজো, তার আগে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জামিন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।