জবা ফুল নয়, এবার পুজোয় মাকে দিন এই একটি পাতা! নবরাত্রিতে শমী পাতা নিবেদনে দূর হবে সব সংকট

জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্ভিদগুলি গ্রহ-নক্ষত্রের অশুভ প্রভাব কমাতেও সক্ষম। এই বিশেষ উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম হলো শমীর পাতা (Shami Patra)। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নবরাত্রির সময় দেবী দুর্গাকে লাল জবা ফুলের সঙ্গে প্রতিদিন শমী পাতা নিবেদন করলে ভক্তের জীবনে সমস্ত সংকট দূর হয়।
সাধারণত, নবরাত্রিতে প্রতিদিন দেবীকে লাল জবা ফুল নিবেদন করার প্রথা বিভিন্ন পুরাণ ও শাস্ত্রে বর্ণিত রয়েছে। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, শমীর পাতাও দেবী দুর্গার অত্যন্ত প্রিয়। শাস্ত্রেও নবরাত্রির সময় শমী পাতা দিয়ে দুর্গার পুজো করার বিশেষ নিয়মের কথা বলা হয়েছে।
আপনি যদি নবরাত্রিতে প্রতিদিন দেবীকে জবা ফুলের সঙ্গে শুধুমাত্র একটি শমীর পাতা নিবেদন করেন, তবে আপনি দেবী ভগবতীর অপার আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন। দশভূজাকে শমী পাতা নিবেদন করলে ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং সমস্ত পারিবারিক ঝামেলা দূর হয়।
শমী পাতা কেন এত শুভ? দুই পৌরাণিক কাহিনি
শমী গাছের ধর্মীয় গুরুত্ব দশমীর তিথির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত:
১. মহারাজ দশরথ: একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দশমীর দিনেই মহারাজ দশরথ শমী গাছ থেকে স্বর্ণমুদ্রা লাভ করেছিলেন। সেই থেকে দশেরার দিনে শমী গাছের পুজো করার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
২. রামের আরাধনা: অন্য একটি গল্পে বলা আছে যে, ভগবান রাম দেবী দুর্গার পুজোর সময় শমী গাছের পুজো করেছিলেন। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নবরাত্রির শেষে দশমীর দিন শমী গাছের পুজো করলে ঘরে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
শমী গাছের সঠিক স্থান ও অলৌকিক ফল
গ্রহের প্রভাব: শমী গাছ বাড়ির দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে স্থাপন করা উচিত। নিয়মিত এর পূজা ও প্রদীপ দেখালে ঘরে গ্রহের বিরূপ প্রভাব কমে আসে।
শনি দোষ মুক্তি: জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, শমী গাছ লাগালে শনি দোষ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
রোগ মুক্তি: তন্ত্রশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয় যে দেবী দুর্গাকে নিয়মিত শমী পাতা নিবেদন করলে, তাঁর সহকারী দেবী জয়া ও বিজয়া প্রসন্ন হন এবং পুরো পরিবারের উপর তাঁদের কৃপা দৃষ্টি বজায় থাকে, যা রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।