ভোটার কার্ডে নাম তোলা বা বাদ দিতে এবার ‘আধার মাস্ট’! আধার-মোবাইল নম্বর লিঙ্ক না থাকলে কী হবে, জানাল নির্বাচন কমিশন!

কিছুদিন আগেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী জনসমক্ষে ‘হাইড্রোজেন বোমা ফাটানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই সম্প্রতি তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘ভোট চুরির প্রমাণ’ তুলে ধরে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসা মাত্রই নড়েচড়ে বসে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। ভোটার তালিকা থেকে যত্রতত্র নাম বাদ দেওয়া রুখতে কমিশন তাদের পোর্টালে এক নতুন ‘ই-স্বাক্ষর’ ব্যবস্থা চালু করেছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধী কর্ণাটকের আলন্দ এবং মহারাষ্ট্রের রাজুরা কেন্দ্রের মতো আসনগুলিতে ‘নিয়ম বহির্ভূত ভাবে’ হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন। এই অভিযোগের পরই কমিশন নিজেদের পোর্টালে নতুন ‘ই-স্বাক্ষর’ ব্যবস্থা চালু করল। কমিশন জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় একমাত্র আধার কার্ডের মাধ্যমেই কাজ করা যাবে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এতদিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা, বাদ দেওয়া বা তথ্য সংশোধনের জন্য কেবল এপিক নম্বর দিলেই হতো। কিন্তু এখন থেকে ফর্ম ফিলআপের সময় আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন বা যাচাই করা আবশ্যক।

গত মঙ্গলবার থেকে চালু হওয়া এই নতুন ব্যবস্থায়—নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬, নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম ৭ বা তথ্য সংশোধনের জন্য ফর্ম ৮—এই তিনটি ফর্ম ফিল-আপের সময়েই তথ্য যাচাই করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো: যাঁর নাম বাদ যাবে, তিনি নিজেই আবেদন করছেন, নাকি অন্য কেউ, তা নিশ্চিত করা।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ফর্ম ফিল আপ করার পর তা জমা দিতে গেলে একটি ‘ই-স্বাক্ষর’ পোর্টাল খুলতে হবে। সেখানে আবেদনকারীকে নিজের আধার নম্বর দিতে হবে। এরপর ওই আধার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে। সেই ওটিপি দিলেই তবেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং আবেদনকারীর আবেদন সঠিকভাবে জমা পড়বে।

আসলে কমিশন প্রায় এক মাস আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী আইটি বিভাগ কাজ করছিল।

ভুয়ো আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনও স্বীকার করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রের রাজুরা কেন্দ্রে নতুন ভোটার হিসাবে নাম তোলার জন্য ৭,৭৯২টি আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৬,৮৬১টিই অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল করা হয়। অন্যদিকে আলান্দে ৬,০১৮টি আবেদনের মধ্যে মাত্র ২৪টিই আসল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও সাধারণ মানুষ অনলাইনে বসে কারও ভোট কেটে দেওয়ার জন্য আবেদন করলেও, তা বাতিল হয়ে যায়—নাম মুছে দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র আবেদন করাই যথেষ্ট নয়।