বিহারের মুসলিম ভোটের ‘খেলা’, জোটের টানাপোড়েনে ক্ষুব্ধ ভোটাররা, লাভ হবে এনডিএ-র?

বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। এনডিএ এবং মহাজোট, উভয় পক্ষেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, একটি নতুন সমীক্ষা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। ‘দ্য অ্যাসেন্ডিয়া’-এর “ব্যাটেল অফ বিহার ২০২৫” (Battle of Bihar 2025) সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন এনডিএ এবং মহাজোটের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে, এনডিএ সামান্য এগিয়ে থাকলেও, এই ব্যবধান খুব বেশি নয়। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম ভোটারদের অসন্তোষ মহাজোটের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুসলিম ভোটারদের উপর নজর
বিহারের রাজনীতিতে মুসলিম ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭% মুসলিম সম্প্রদায়। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই সম্প্রদায়ের প্রায় ৭৫% ভোট মহাজোট পেয়েছিল, যেখানে প্রায় ১৭% ভোট অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর ঝুলিতে গিয়েছিল। এই ভোট বিভাজন অনেক আসনে মহাজোটের ক্ষতির কারণ হয়েছিল। এবারের নির্বাচনেও এখন পর্যন্ত তেজস্বীর দলের সঙ্গে এআইএমআইএম-এর কোনো জোট হয়নি।
কেন অসন্তুষ্ট মুসলিমরা?
সমীক্ষা বলছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষের প্রধান কারণ হলো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব। রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের সাম্প্রতিক “ভোটার অধিকার যাত্রা”য় মুসলিম নেতাদের যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে। এই সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ টিকিট বণ্টনে আরও বেশি অংশীদারি এবং একজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ দাবি করছে।
প্রশান্ত কিশোরের প্রভাব
এবার প্রশান্ত কিশোর (পিকে) নিজেও নির্বাচনী ময়দানে আছেন। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু সমীক্ষা অনুযায়ী, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে পিকে-কে নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তার দল (জেএসপি) ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে মহাজোটের ক্ষতি করেছে। এছাড়া, তার অর্থের উৎস এবং বিজেপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের নির্বাচন জাতিগত সমীকরণ, জোটের শক্তি এবং ভোটারদের সমর্থন বা অসন্তোষের ওপর নির্ভরশীল হবে। মুসলিম ভোটাররা এই নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি মহাজোট সময়মতো তাদের ক্ষোভ দূর করতে না পারে, তাহলে এর সরাসরি লাভ এনডিএ পেতে পারে।