বিধায়ককে খুনের হুমকি, অভিযুক্ত খোদ গভর্নরের ছেলে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে তোলপাড়

ত্রিপুরার টিপরা মথা পার্টির (টিএমপি) বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াংকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তেলঙ্গানার গভর্নর জিষ্ণু দেব বর্মার ছেলে প্রতীক কিশোর দেব বর্মার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিধায়কের অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং টিএমপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিধায়কদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?
বিধায়ক ফিলিপ রিয়াংয়ের অভিযোগ, সোমবার রাতে আগরতলার নবনির্মিত বিধায়ক হোস্টেলে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। সে সময় ৩-৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, যারা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, তাকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ ও খুনের হুমকি দেন। পরে জানা যায়, এই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন তেলঙ্গানার গভর্নর জিষ্ণু দেব বর্মার ছেলে প্রতীক কিশোর দেব বর্মা। ঘটনার পরপরই রিয়াং পুলিশ সুপারকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও বিধায়কদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিধায়ক ফিলিপ রিয়াং বলেন, “বিধায়ক হোস্টেলে ৪২-৪৫ জন বিধায়ক থাকেন। আজ আমার সঙ্গে এমন হয়েছে, কাল অন্য কারও সঙ্গেও ঘটতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।” টিএমপি বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি তুলে ধরে বলেন, “হোস্টেলে প্রবেশকারী গাড়ির কোনো রেকর্ড রাখা হয় না।” এই ঘটনার পর ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকর হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

রাজনৈতিক চাপান-উতোর
এই ঘটনা বিজেপি এবং টিএমপি-র মধ্যে পুরনো রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জিষ্ণু দেব বর্মা নিজে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য এবং টিএমপি প্রধান প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মার কাকা। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিষ্ণু দেব বর্মা টিএমপি প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন, যা দুই দলের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। এই নতুন অভিযোগ ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।