পেনশনভোগীদের জন্য ন্যূনতম ৪৫,০০০ টাকা পেনশনের মেগা দাবি, খুশির হাওয়া কর্মী মহলে

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠিত হওয়ার পর ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে ৯ মাস। হাতে আর মাত্র ৯ মাস সময় বাকি রয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিশনকে তাদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। আর এই সীমিত সময়ের মধ্যেই দেশের পেনশনভোগীদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ‘ভারত পেনশনভোগী সমাজ’ (BPS)-এর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ জোরালো দাবি পেশ করা হয়েছে, যা ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত মহলে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে।

৭ অগাস্ট কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের অধীনে প্রায় ১০ লক্ষ পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ভারত পেনশনভোগী সমাজ’-এর প্রতিনিধিরা সম্প্রতি গত ৭ অগাস্ট কমিশনের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি, বছরে দু’বারের বদলে প্রতি ৩ মাস অন্তর মহার্ঘ ভাতা (DA/DR) সংশোধন এবং পুরনো ও নতুন পেনশনের মধ্যকার ফারাক দূর করার মতো বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মচারীদের প্রধান দাবিগুলি এক নজরে:

  • নূন্যতম পেনশন বৃদ্ধি: বর্তমান সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে ন্যূনতম বেসিক পেনশন যেখানে মাত্র ৯,০০০ টাকা, সেখানে তা একলাফে বাড়িয়ে মাসিক ৪৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ওই সংগঠন।

  • ন্যূনতম মূল বেতন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: কর্মচারীদের কথা মাথায় রেখে ন্যূনতম বেসিক বেতন বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির মূল নির্ধারক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮৩ করার জোরালো দাবিও তোলা হয়েছে।

  • ত্রৈমাসিক মহার্ঘ ভাতা (DA & DR) সংশোধন: বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বছরে দুবার (জানুয়ারি ও জুলাই মাসে) মহার্ঘ ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জেরে ৬ মাসের অপেক্ষার সময়কালকে অনেক দীর্ঘ বলে মনে করছে সংগঠন। সেই কারণে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর ডিএ ও ডিআর সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কেন এই দাবি?

সংগঠনের যুক্তি, বর্তমান বাজারে আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচের কথা মাথায় রেখে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয়, অষ্টম বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই দাবিগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *