অযোগ্যদের তালিকায় বিজেপি নেতার স্ত্রীর নাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচারকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অযোগ্যদের তালিকায় এবার এক বিজেপি নেতার স্ত্রীর নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, অযোগ্যদের তালিকায় থাকা ওই মহিলা একসময় তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারকের স্ত্রী। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপান-উতোর চরমে পৌঁছেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ ও বিজেপির পাল্টা জবাব
তৃণমূলের দাবি, অযোগ্যদের তালিকায় নাম ওঠা মহিলার স্বামী দীপক দেবশর্মা আগে তৃণমূল করতেন এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি বিজেপির মণ্ডল কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের কনভেনর হিসেবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। তৃণমূলের জেলা কমিটির নেতা জয়দেব বর্মণ বলেন, “অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিজের ইলেকশন এজেন্টের স্ত্রীর নাম এই তালিকায় রয়েছে। এতে বিজেপির আসল মুখ এবং মুখোশ দুটোই আলাদা হয়ে গেল।”
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবব্রত পট্টনায়ক বলেন, “ওই ব্যক্তি আগে তৃণমূল করতেন এবং তৃণমূল নেতাদের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক বা পদের সঙ্গে যুক্ত নন। তৃণমূল মিথ্যা অপপ্রচার করছে।”
অভিযুক্তের সাফাই
এদিকে, অভিযুক্ত দীপক দেবশর্মা নিজের স্ত্রীর পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, “আমার স্ত্রী নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন। সমস্ত নিয়মকানুন মেনেই তিনি চাকরি পেয়েছেন। এটি বিচারাধীন বিষয়। আমি এখন কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই।”
অযোগ্যদের তালিকায় নাম আসায় রাজনৈতিক চাপান-উতোর চলছেই। বিজেপি ও তৃণমূলের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে সাধারণ মানুষ ধোঁয়াশার মধ্যে। এই ঘটনার পর আদালতের রায় কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।