ডাক্তার পরিচয়ে ইঞ্জেকশন দিলেন কম্পাউন্ডার, মৃত্যু গর্ভস্থ সন্তানের, নার্সিংহোমে ঝুললো তালা

একবালপুরের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসকের বদলে সহকারী ইনজেকশন দেওয়ার পর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর গাফিলতির ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। অবিলম্বে নার্সিংহোমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
অভিযোগকারিণী মহিলা জানান, তিনি গর্ভবতী ছিলেন এবং ব্যথা অনুভব করায় একবালপুরের বেলোনা নার্সিংহোমে যান। অভিযোগ, সেই সময় নার্সিংহোমে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। একজন সহকারী, যিনি নিজেকে ‘আরএমও’ (RMO) বলে পরিচয় দেন, তিনিই রোগীকে দেখেন এবং ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরই মহিলার তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, নার্সিংহোমের এই চরম গাফিলতির কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
ঘটনাটি জানার পর পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য কমিশন দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন একাধিক নির্দেশ জারি করেছে:
- নার্সিংহোম বন্ধ: বেলোনা নার্সিংহোমে আপাতত তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে।
- তদন্তের নির্দেশ: স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
- ক্ষতিপূরণের নির্দেশ: অভিযোগকারিণী মহিলাকে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হাসপাতালের চিকিৎসকের দায়িত্ব যে অন্য কেউ নিতে পারে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় একবালপুর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমে এর আগেও চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নানা অসন্তোষ ছিল। এই ঘটনায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নার্সিংহোমটি বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন।