খেজুরি কাণ্ড নিয়ে দুই রিপোর্টে দুই রকম তথ্য, দেখে অবাক হাইকোর্ট, তদন্তে নতুন মোড়?

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থেকে দুই বিজেপি কর্মী সুজিত দাস এবং সুধীর পাইকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মঙ্গলবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জুলাই মাসে একটি জলসা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দুই বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শুরু থেকেই দাবি করছিল যে তাদের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, কিন্তু পরিবার প্রথম থেকেই খুনের অভিযোগ করে আসছিল। পরিবারের আবেদনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়।

প্রথম ময়নাতদন্তে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কথা জানালেও, এসএসকেএমের দ্বিতীয় রিপোর্টে মৃতদেহ দু’টির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই দুটি রিপোর্টের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই মামলা নিয়ে আমি খুব বিরক্ত। দুটি রিপোর্টে এরকম পার্থক্য কেন হবে? জেলার ফরেনসিক কর্মকর্তারা কি যথেষ্ট অভিজ্ঞ নন, নাকি তাদের স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে?”

বিচারপতি আরও বলেন, “এতদিন আপনারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার বিষয় ধরে তদন্ত করছিলেন, কিন্তু এখন তো খুনের মামলা হিসেবে তদন্ত করতে হবে। পুরো তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে।” এই পরিস্থিতিতে তিনি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের এই তদন্তে যুক্ত করার কথা বলেছেন। তার এই পর্যবেক্ষণের পর এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই হবে।