‘ওয়েব সিরিজ দেখে শিখেছি’, স্বামীকে খুনের পর সাধাসিধে ভঙ্গিতে বলল যুবতী, কারণ শুনে চমকে উঠল পুলিশও

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে রাজস্থানে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার জয়পুরে শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং পারিবারিক অশান্তি, শারীরিক নির্যাতন ও সন্দেহের কারণে এক স্ত্রী তাঁর স্বামীকে খুন করিয়েছেন। এই খুনের ঘটনায় স্ত্রীকে সহযোগিতা করেছে তাঁর প্রেমিক এবং প্রেমিকের এক বন্ধু। খুনের নৃশংস পরিকল্পনা শুনে পুলিশও হতবাক হয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম মনোজ, যিনি পেশায় ই-রিক্সা চালক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সন্তোষ দেবী একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেই কারখানাতেই কাজ করত আরেক অভিযুক্ত ঋষি শ্রীবাস্তব, যার সঙ্গে সন্তোষ দেবীর অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ত্রয়ী মনোজকে খুনের জন্য এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে। তারা গুগলে বিভিন্ন খুনের ঘটনা এবং ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজ দেখে খুনের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা নতুন সিম কার্ড কেনে এবং খুনের স্থানও আগে থেকে ঠিক করে রাখে।

শনিবার রাতে ঋষি এবং তার বন্ধু মোহিত শর্মা মনোজের ই-রিক্সা নিয়ে ইসকন মন্দিরের দিকে যায়। একটি নির্জন এলাকায় গিয়ে তারা ধারালো ছুরি দিয়ে মনোজের গলা কেটে খুন করে। এরপর তারা ঘটনাস্থলেই পোশাক পরিবর্তন করে এবং সিম কার্ডটি বন্ধ করে দেয়।

যদিও ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না, তবুও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা খুনের কথা স্বীকার করে।

প্রসঙ্গত, একই ধরনের আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড গত শনিবার রাজস্থানের আলওয়ারে ঘটেছে। আলওয়ারের ‘নীল ড্রাম রহস্য’-এর তদন্ত করে পুলিশ ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে। তাঁকে খুন করার অভিযোগে স্ত্রী সুনীতা এবং তার প্রেমিক জিতেন্দ্র-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খুন করার পর সুনীতা ও তার প্রেমিক দেহটি একটি নীল ড্রামে ভরে তাতে লবণ দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। এই দুজনও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিল। মাত্র দেড় মাস আগে সুনীতা তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাড়িতে থাকতে আসে, এবং জিতেন্দ্রর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার পর সুনীতা তার তিন সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে তদন্ত শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই দুটি ঘটনা আবারও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরল।