“ক্ষুদিরামকে ধরেও টানাটানি করবে ভাষা সন্ত্রাসীরা?”-‘Kesari 2’ নিয়ে বলিউডকে বিঁধলেন মমতা

স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভাষা ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার একটি এক্স (X) পোস্টে তিনি সম্প্রতি একটি হিন্দি ছবিতে ক্ষুদিরাম বসুকে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ হিসেবে দেখানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ধরনের কাজ শহিদদের প্রতি চরম অসম্মান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পোস্টে লিখেছেন, “সম্প্রতি একটি হিন্দি ছবিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরামকে ‘সিং’ বলা হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অপমান করা হচ্ছে কেন? পথিকৃৎ অমর বিপ্লবী ক্ষুদিরামকে ধরেও টানাটানি করবে ভাষা-সন্ত্রাসীরা?”

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, এই ছবিতে মেদিনীপুরের শহিদ বিপ্লবীকে পাঞ্জাবের বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রতীক এই মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলার বিপ্লবীদের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো চেষ্টা রাজ্য সরকার বরদাস্ত করবে না। তার মতে, এটি কেবল একজন বিপ্লবীর প্রতি অসম্মান নয়, বরং বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।

মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার সরকার ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্মৃতি বিজড়িত মহাবনী এলাকার উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। মহাবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে, শহিদের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি নতুন অডিটোরিয়াম ও কনফারেন্স রুম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, কলকাতার একটি মেট্রো স্টেশনের নামকরণও শহিদ ক্ষুদিরামের নামে করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘কেসারি চ্যাপ্টার ২’ নামের একটি ছবিতে ক্ষুদিরাম বসুকে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ বলা নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত জুনে এই ছবির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতির অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্টকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ক্ষুদিরাম বসু শুধু বাংলার নন, সমগ্র ভারতের গর্ব। তাই তার নাম, পরিচয় বা অবদান নিয়ে কোনো ভুল তথ্য প্রচার করা মেনে নেওয়া যায় না।