ভেসে গিয়েছে কাঠের সাঁকো, স্কুলে যেতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভরসা ভেলা

বর্ষার ভরা শিলাবতী নদী। জলের তোড়ে ভেসে গেছে একমাত্র কাঠের সেতুটি। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এখন একমাত্র ভরসা হলো গ্রামবাসীদের হাতে তৈরি বাঁশের ভেলা। দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম দড়ি দিয়ে বেঁধে তার উপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পাটাতন। নদীর এপাড়-ওপাড়ে বাঁধা দড়ি ধরে টেনে টেনে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে চন্দ্রকোণা ২ ব্লকের শ্রীরামপুর এলাকার ছাত্রছাত্রীরা। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে তাদের পড়াশোনাও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোণা ২ ব্লকের বান্দীপুর ১ পঞ্চায়েতের মধ্যে অবস্থিত বাগপোতা হাইস্কুলে যেতে হলে শ্রীরামপুর গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের এই শিলাবতী নদী পার হতে হয়। গত দেড় মাস ধরে ঘাটালের সিংভাগ এলাকার মতো এই অঞ্চলের অবস্থাও ভালো নয়। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় দুটি গ্রামের সংযোগকারী একমাত্র কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। গ্রামে কোনো নৌকা না থাকায় গ্রামবাসীরা মিলে এই ভেলা তৈরি করেছেন।

গ্রামের একজন বাসিন্দা প্রতিদিন স্কুলের সময় ছাত্রছাত্রীদের ভেলা দিয়ে নদী পারাপার করিয়ে দেন। রমেন লাল নামের এক অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে খুব ভয় করে। নদীর ঘাটে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি যতক্ষণ না তারা নদী পার হয়।”

বাগপোতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকান্তকুমার পাল জানান, “স্কুলে দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট পরীক্ষা চলছে, তাই ছাত্রছাত্রীরা খুবই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সেতু ভাঙার পর বারবার বিডিও-র কাছে আবেদন করেও কোনো সমাধান হয়নি। এলাকায় একটি নৌকা পর্যন্ত নেই।” তিনি আরও বলেন যে, ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে শ্রীরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেই গ্রামের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সন্ধ্যা লাল জানিয়েছে, “সেতু ভেঙে যাওয়ার পর নদীর ওপারে অঙ্ক টিউশন পড়তে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পরীক্ষা ভালো করে দিতে পারিনি।”

এই বিষয়ে চন্দ্রকোণা ২ ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক বলেন, “নদীর জলস্তর বারবার বেড়ে যাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে। তবে সেচ এবং পূর্ত দপ্তরের কাছে একটি স্থায়ী সেতুর জন্য আবেদন করা হয়েছে।” যতদিন না স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন এই অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত চালিয়ে যেতে হবে।