পহেলগাঁওয়ের নাম করে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, বৃদ্ধ খোয়ালেন ৩৭ লাখ টাকা

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগের ভয় দেখিয়ে শিলিগুড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকের থেকে ৩৭ লক্ষ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার প্রতারকরা। ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং মানি লন্ডারিংয়ের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে, এমন ভয় দেখিয়ে ওই প্রবীণ নাগরিককে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে। পূর্ব বিবেকানন্দপল্লির বাসিন্দা মনোজমোহন সেনশর্মা (৭০) বর্তমানে এই প্রতারণার শিকার হয়ে দিশাহারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ আগস্ট। মনোজবাবুর মোবাইলে সুমিত মিশ্র নামে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে পহেলগাঁও থানার পুলিশ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি মনোজবাবুকে জানান যে, পহেলগাঁও হামলায় তিনি পাকিস্তানে তথ্য পাচার করেছেন এবং এই কারণে তার নামে মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা হয়েছে। প্রথমে মনোজবাবু এটিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এরপর ভিডিও কলে প্রেম কুমার এবং দেবাশিস ঘোষ নামে আরও দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা নিজেদের পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়।
প্রতারকরা মনোজবাবুকে বারবার ভয় দেখাতে থাকে যে বিষয়টি কাউকে জানালে তার বিপদ হবে এবং বাড়িতেও কাউকে ঢুকতে দেবে না। ৪ এবং ৫ আগস্ট, টানা দুই দিন ধরে তারা মনোজবাবুকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। এমনকি, সেনাবাহিনীর পোশাক পরে একজন নাটকীয়ভাবে অন্য এক আধিকারিকের ঘরে ঢুকে স্যালুট করে ‘জয় হিন্দ’ বলে সম্ভাষণ জানায়। তদন্তের নামে তারা মনোজবাবুর কাছ থেকে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়ে নেয়। ভিডিও কলে দেবাশিস নামের লোকটি তার মুখ ঢেকে রেখেছিল। কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, সেনা আধিকারিকদের ক্যামেরার সামনে আসা নিষেধ। এরপর মনোজবাবুর হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো ইনকোয়ারি রিপোর্ট এবং অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়। তারা এনআইএ-র নামে ভুয়ো পরিচয়পত্রও পাঠিয়েছিল।
প্রতারকদের কথায় প্রভাবিত হয়ে মনোজবাবু দুই দফায় মোট ৩৭ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা তাদের দেওয়া একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন। এরপর তার ছেলে, যিনি সিঙ্গাপুরে থাকেন, তিনি তার অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের মেসেজ পান। বাবাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করতেই গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মনোজবাবুর ভাই ধ্রুবময় সেনশর্মা শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টাকা অন্ধ্রপ্রদেশের একটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, মনোজমোহন সেনশর্মা কেন্দ্রীয় জল কমিশনে একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রায় ২০ বছর আগে অবসর গ্রহণ করেন। তার একমাত্র ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকেন।