“আমাদের সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল, আমরাই জিতেছি…”-অসীম মুনিরকে খোঁচা উপেন্দ্র দ্বিবেদীর

২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সেনাবাহিনীর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শনিবার আইআইটি মাদ্রাজ-এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন যে, এটি পাকিস্তানের ন্যারেটিভ ম্যানেজমেন্টের একটি অংশ। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “যদি কোনো পাকিস্তানিকে জিজ্ঞেস করেন, সে বলবে আমাদের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হয়েছেন, তার মানে আমরাই জিতেছি। আর সে কারণেই তিনি এই পদ পেয়েছেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শক্তির পাশাপাশি জনমত এবং ন্যারেটিভ ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, পহেলগাঁও হামলার পরের দিন অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে তিন বাহিনীর প্রধানদের এক উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “আর নয়, অনেক হয়েছে!” এটি ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত ছিল। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। “কী করব, তা আমরা নিজেরা ঠিক করব—এমন রাজনৈতিক সমর্থন আগে দেখা যায়নি। এর ফলে আমাদের সৈন্যদের মনোবল ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়,” বলেন সেনাপ্রধান।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’
৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জন্য ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এই অভিযানে ১০০-রও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং তাদের একাধিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালানোর চেষ্টা করলেও ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা সফলভাবে প্রতিহত করে। জবাবে ভারত পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি, রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়।
রাজনৈতিক ও সামরিক মহলের মতে, এই অভিযানটি কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন ছিল না, বরং এটি ভারতের রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়ার সক্ষমতার একটি উদাহরণ। এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।