‘শুল্কের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট’, ভারত-মার্কিন শুল্কযুদ্ধ নিয়ে মুখ খুলল চিন

লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে চীন। দিল্লিতে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এবং চীনের বিদেশ মন্ত্রক উভয়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফরের কথা রয়েছে। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও চীন সফর করেছেন। এই কূটনৈতিক আদান-প্রদানের মধ্যেই মার্কিন শুল্ক নিয়ে চীনের বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হাইকুনকে যখন ভারতের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি সরাসরি ভারতের নাম না করে বলেন, “শুল্কের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে চীনের বিরোধিতা ধারাবাহিক এবং স্পষ্ট।”
উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ভারতের মতো চীনও কি একই ধরনের শুল্কের মুখে পড়তে পারে? উত্তরে ট্রাম্প বলেছিলেন, “হতে পারে, দেখা যাক আমরা কীভাবে করি!” এর পর থেকেই বেইজিং এই বিষয়ে সরব হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন যে, ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হতে পারে, যার মধ্যে চীনও থাকতে পারে।
তবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য চীন বা তুরস্ক কেউই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি বা জরিমানার মুখে পড়েনি। এই বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ভারত “অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল রাশিয়া গিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও রাশিয়া সফরে যাবেন। আগামী সপ্তাহে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, মার্কিন শুল্ককে ঘিরে গোটা বিশ্বে ব্যাপক কূটনৈতিক তোলপাড় চলছে এবং দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।