‘মহুয়ার কিছু হলে দায়ী থাকবে সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ!’ বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে সরাসরি ইমপিচমেন্টের হুঙ্কার, নেটদুনিয়ায় দাবানল বিতর্ক!

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি মামলার শুনানি ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র মন্তব্য কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তাল জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতি। ফেসবুক পোস্ট সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি মামলায় পুলিশের সামনে সরাসরি হাজির না হয়ে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। গত ৭ অগস্ট বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। শুনানিপর্বে বিচারপতি দত্তের একটি মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টে ঠিক কী ঘটেছিল?
কলকাতা হাইকোর্ট মহুয়া মৈত্রকে আগামী ১৪ অগস্ট তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ না করে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরাসরি হাজিরার পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তৃণমূল সাংসদ।
মহুয়ার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, এর আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার থানায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় মহুয়ার দিকে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে থানায় গেলে ফের একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই ভার্চুয়াল সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়।
কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি একজন সাংসদ? রাজনীতিতে পা রাখার পর ডিমে ভয় কেন?’ এর পরেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, তাঁরা তো বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন। আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণের পর মহুয়ার আইনজীবী স্বয়ং আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড়
শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারপতির মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা কি তবে চান মহুয়া মৈত্র গুলি খান? সাংবিধানিক পদের বিচারপতির থেকে এমন মন্তব্য অপ্রত্যাশিত বলেও তোপ দাগেন তিনি।
পাশাপাশি মহুয়ার নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে সৌরভ দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মহুয়ার কোনও ধরনের ক্ষতি হলে এর জন্য বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চকেই দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকী কার্যকর গণতন্ত্র বজায় রাখতে এই ধরনের বিচারপতিদের পদত্যাগে বাধ্য করা বা তাঁদের ইমপিচমেন্টের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও তোলেন CJP মুখপাত্র। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও একই সুরে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট গত ২১ জুলাই মহুয়া মৈত্রকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করেছিল। মহুয়ার সাফ দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। বর্তমানে সেই মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে পুলিশের সামনে তলব করা হয়েছে।