‘প্রকৃত মুসলমানরা কখনও গরু জবাই করেন না!’ বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই কী সাফাই দিলেন রামপুরের পুলিশ সুপার?

‘একজন প্রকৃত মুসলমান কখনওই গরু জবাই বা এমন কোনও কাজ করবেন না যা অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়।’ রামপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) অনিল কুমার সিং সিসোদিয়ার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ার পর নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সাফাই দিয়ে এসপি দাবি করেছেন, তাঁর কথার উদ্দেশ্য কেবল সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা ছিল, তবে তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ঠিক কী বলেছিলেন রামপুরের এসপি?
গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইনে গরু জবাই রোধের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসপি সিসোদিয়া জানান যে, সম্প্রতি শ্রাবণ মাসে গঞ্জ ও সোয়ার থানা এলাকায় এই ধরনের বেশ কিছু ঘটনার খবর তাঁর কাছে এসেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ইসলাম অনুযায়ী, এমন কোনও প্রাণীর মাংস খাওয়া হারাম (নিষিদ্ধ) যার জবাই অন্য কোনও ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়। একজন প্রকৃত মুসলমান কখনওই এমন কাজ করবেন না। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তারা হয় মুসলমান নন, অথবা তারা অত্যন্ত ঘৃণ্য প্রকৃতির মানুষ। এমন লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই আমার কাজ।”
এর পাশাপাশি, রামপুরের ‘মুতাওয়াল্লি’ (ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক) ও স্থানীয় ধর্মগুরুদের সঙ্গে বৈঠক করে গরু জবাইয়ের ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে আবেদন জানানোর কথাও ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে বিগত এক দশকে গরু জবাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করতে একটি বিশেষ অভিযানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে।
বিতর্কের জেরে এসপির সাফাই
পুলিশ সুপারের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তীব্র চাপের মুখে পড়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন অনিল কুমার সিং সিসোদিয়া। তিনি জানান, গরু জবাই সংক্রান্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’-এর পূর্ববর্তী অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটিও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে যে, এমন কোনও প্রাণী জবাই করা অনুচিত যা অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং তারা এই ধরনের কাজকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করেছে।
বিতর্ক এড়াতে এসপি আরও জোরালোভাবে বলেন, “আমি কেবল সামাজিক ও সম্প্রীতিমূলক একটি আহ্বান জানিয়েছিলাম, যাতে শ্রাবণ মাসে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন কোনও ঘটনা না ঘটে। আমার লক্ষ্য ছিল কেবল পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রাখা। কোনও ধর্ম, সম্প্রদায় বা ব্যক্তির অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল না। আমার বক্তব্য যদি অন্য কোনও অর্থে বুঝে কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে তা কখনওই আমার কাম্য ছিল না।”