বন্ধ ঘরে মা-স্ত্রীর দেহ, স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, পাওনাদারদের চাপ? ফিরলো ট্যাংরা-স্মৃতি

আর্থিক অনটনের শিকার হয়ে রাজারহাটের নারায়ণপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একটি বন্ধ বাড়ি থেকে দুই মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একই পরিবারের এক যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আর্থিক দুর্দশার কারণে পরিবারের তিন সদস্যই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণপুরের দেবীপার্ক এলাকায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মহুয়া দে (স্ত্রী) ও শিপ্রা রক্ষিতের (মা) নিথর দেহ দেখতে পায়। পাশে অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিলেন সঞ্জয় দে। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উদ্ধার করে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয় দে (৫৫) একসময় বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিলেন, যা তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো কাজ করতেন না এবং ধীরে ধীরে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। ঋণের চাপ সামলাতে তিনি তার বাড়ি ও গাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পাওনাদাররা প্রায়শই তাদের বাড়িতে আসতেন। এই আর্থিক চাপ এবং নিঃসন্তান হওয়ার মানসিক অবসাদেই তারা এমন চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা তিনজনই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে আর্থিক অনটনই এর মূল কারণ নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনা ট্যাংরার ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে একই পরিবারের সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।