অনুব্রত মন্ডল কি আরও গুরুত্ব হারাবেন? চর্চা শুরু হয়েছে জোড়াফুলে

একদা বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনে কি শেষবেলা আসন্ন? তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে তার ক্ষমতা ও প্রভাব কমতে শুরু করেছে, আর ২১ জুলাইয়ের সভা যেন সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে গেল। ধর্মতলার মূল মঞ্চ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা না করতে পারার ঘটনাকে তৃণমূলের অন্দরে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত রবিবার, ২১ জুলাইয়ের সভার আগের দিন, মূল সভামঞ্চের কাছে যেতে অনুব্রতকে বাধা দেয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। অথচ একই সময়ে বীরভূম থেকে আসা অন্যান্য নেতা, মন্ত্রী ও সাংসদ যেমন কাজল শেখ, শতাব্দী রায়, সামিরুল ইসলাম এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভার গুরুত্বপূর্ণ অংশে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে অনুব্রতর প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষের একটি পরিষ্কার বার্তা হিসেবে মনে করছে দলের একাংশ।
এক সময় বীরভূমের তৃণমূল মানেই ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু এখন সেই ছবিটা বদলে গেছে। দলের একাধিক নেতার মতে, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের মতো নেতারা এখন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। অনুব্রত যেখানে শুধু কোর কমিটির একজন সদস্য হয়ে রয়েছেন, সেখানে কোর কমিটির বৈঠক ডাকার মতো ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এটি অনুব্রতর পুরোনো একাধিপত্যের অবসানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতেই দল গত পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমে ভালো ফল করেছে। তার ‘গুড়-বাতাসা’ বা ‘চড়াম চড়াম’ মার্কা গরম গরম কথা না-বলেও দল যে সাফল্য পেতে পারে, তা প্রমাণিত হয়েছে। বীরভূমে এখন যৌথ নেতৃত্বের যে মডেল কাজ করছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে অনুব্রত আর দলের জন্য অপরিহার্য নন।
তিহাড় থেকে ফেরার পর বোলপুর থানার আইসি-র সঙ্গে তার ফোনে কথোপকথন প্রকাশ্যে আসার পর দল তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিল। দলের একাংশ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করারও পক্ষপাতী ছিল। ২১ জুলাইয়ের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে। দলের পর্যবেক্ষণ, অনুব্রত যদি এই বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হন, তবে নিজের জেলাতেই তিনি ব্রাত্য হয়ে যেতে পারেন।