“পড়ুয়াদের মন পড়তে ডাইনিং রুমে ক্যামেরা”-তৎপরতা বাড়ানো হলো IIT খড়্গপুরে

দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরে গত এক বছরে পাঁচ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঋতম মণ্ডলের মৃত্যুর পর এই আত্মহত্যা ঠেকানোর উপায় খুঁজতে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়েছে। পড়ুয়াদের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য এবার হস্টেলের ডাইনিং রুমে বসানো হবে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা। যদিও শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নজরদারি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, একজন পড়ুয়ার মানসিক অবস্থার অবনতি হলে তার প্রথম লক্ষণ হলো খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়া। অনেক পড়ুয়াই মন খারাপ হলে নিজেদের ঘরে আটকে রাখেন এবং ডাইনিং হলে খেতে যান না। এই প্রবণতাকেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই ফেস রেকগনিশন ক্যামেরাগুলো আগে থেকেই প্রতিটি পড়ুয়ার মুখ চিনে রাখবে। কোনো পড়ুয়া যদি একটানা কয়েক দিন ডাইনিং হলে খেতে না আসেন, তবে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। এই ডেটা পেয়ে কর্তৃপক্ষ ওই পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাউন্সেলিং বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ কমিটি কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। বর্তমানে ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১৫ জন কাউন্সেলার রয়েছেন। কমিটি জরুরি ভিত্তিতে এই সংখ্যা অন্তত ২০ করার পরামর্শ দিয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ ২৫ জন কাউন্সেলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কমিটি চায়, এই কাউন্সেলাররা শুধু অফিসে বসে না থেকে ক্যাম্পাসের সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়ে পড়ুয়াদের খোঁজখবর রাখুন।

এছাড়াও, প্রতিটি হস্টেলে একজন করে ফুল-টাইম স্টুডেন্টস ম্যানেজার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন হস্টেলের দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডেনরা বেশিরভাগই শিক্ষক, যাদের বিভিন্ন ব্যস্ততা থাকে। একজন আলাদা ম্যানেজার থাকলে তিনি পড়ুয়াদের উপর নজর রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে তাদের সাথে খোলা মনে কথা বলতে পারবেন।

এই প্রস্তাবগুলো যতটা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি করছে। আইআইটি কর্তৃপক্ষও এই বিষয়ে সচেতন। তারা মনে করছেন, নজরদারির নামে যদি পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কমিটির লিখিত সুপারিশগুলো হাতে পেলেই সেগুলো দ্রুত কার্যকর করা হবে।