“হোয়াটসঅ্যাপেও ব়্যাগিংয়ের বিপদ …”-হেনস্থা ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিলো UGC-এর

ভারতে র্যাগিংয়ের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে তাদের হেল্পলাইনে মোট ১,০৮৬টি র্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১২.৭ শতাংশ বেশি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে র্যাগিং সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যাও: ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪-এ যথাক্রমে ১৪, ১৭ এবং ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল র্যাগিংয়ের কারণে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ঠেকাতে এবার বড় পদক্ষেপ করল UGC।
বর্তমানে অফিস হোক বা কলেজ, সব জায়গাতেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। ইদানীং অনেক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা জুনিয়রদের হেনস্থা করার জন্য অনানুষ্ঠানিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে UGC উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
UGC-এর সাম্প্রতিকতম নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যদি কোনো সিনিয়র শিক্ষার্থী এই গ্রুপগুলিতে জুনিয়রদের হেনস্থা করে, তাহলে তাকে র্যাগিং হিসেবেই গণ্য করবে কমিশন। র্যাগিং-বিরোধী যে আইন রয়েছে, সেই আইনের ধারা মেনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
UGC আরও বলেছে, প্রতি বছর ফ্রেশারদের কাছ থেকে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, সিনিয়ররা অনানুষ্ঠানিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে জুনিয়রদের মানসিক ভাবে হেনস্থা করে। কমিশন এটিকে র্যাগিংয়ের সমান বলে গণ্য করছে এবং এর জন্যও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
UGC জোর দিয়ে বলেছে, “ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। র্যাগিং-বিরোধী নিয়ম প্রয়োগে ব্যর্থ হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অনুদান আটকে দেওয়া-সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।” এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির উপর র্যাগিং প্রতিরোধে আরও বেশি দায়বদ্ধতা চাপাবে।
নির্দেশিকায় র্যাগিংয়ের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। UGC স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের চুল কাটতে বাধ্য করা, দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে বাধ্য করা বা মৌখিকভাবে অপমান করাও র্যাগিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। সিনিয়রদের এই সব নির্দেশ না মানলে জুনিয়রদের সামাজিক ভাবে বয়কট করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়। UGC এই ধরনের কার্যকলাপকে র্যাগিং-বিরোধী নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে যে, এই ধরনের কার্যকলাপ কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না।
UGC-এর এই নতুন এবং কঠোর পদক্ষেপগুলি র্যাগিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।