ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল, মেঝেতেই সন্তানের জন্ম! কাঠগড়ায় মালদা মেডিক্যাল

হাসপাতালের গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রসূতিকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাসপাতালের পাশের এক সরকারি রাত্রিনিবাসের মেঝেতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন এক তরুণী। এখানেই শেষ নয়, প্রসবের পর ট্রলি পর্যন্ত না মেলায় নবজাতক ও প্রসূতিকে বস্তায় ভরে হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মারত্মক অভিযোগ উঠল। বুধবার রাতের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে।

ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?

সূত্রের খবর, গাজোলের রানিগঞ্জের বাসিন্দা শ্রাবন্তী টুডুকে নিয়ে বুধবার রাতে মালদা মেডিক্যালের ‘মাতৃমা’ বিভাগে এসেছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন। কিন্তু পরিজনদের অভিযোগ, সেই সময় প্রসব যন্ত্রণা সত্ত্বেও শ্রাবন্তীকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছিল, এখনই প্রসবের সময় হয়নি।

নিরুপায় হয়ে পরিবার প্রথমে জরুরি বিভাগের সামনের ফুটপাথ এবং পরে জরুরি বিভাগ সংলগ্ন সরকারি রাত্রিনিবাসে আশ্রয় নেয়। সেখানেই বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন শ্রাবন্তী। রোগীর এক আত্মীয়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওকে নিয়ে আসার পরেও ভর্তি নেওয়া হলো না। যদি প্রসবের সময়ে কোনো অঘটন ঘটত, তার দায় কে নিত?”

ট্রলি না পেয়ে বস্তায় করে টানার অভিযোগ

পরিবারের অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। রাত্রিনিবাসে সন্তান প্রসবের পর মা ও সদ্যোজাতকে দোতলা থেকে নিচে নামানোর জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে কোনো স্ট্রাকচার বা ট্রলি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে প্রসূতিকে বস্তায় ভরে নামিয়ে আবার মাতৃমা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত্রিনিবাসের দায়িত্বে থাকা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, “হাসপাতাল থেকে ভর্তি না নেওয়ায় মানবিকতার খাতিরে আমরা তাঁদের এখানে থাকতে বলেছিলাম। সেখানেই মেঝেতে ওই মহিলা সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালের কেউ সাহায্য করতে আসেনি, ট্রলিও পাওয়া যায়নি। শেষমেশ ওঁকে বস্তায় করেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।”

তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ কর্তৃপক্ষের

এই অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার গণেশ গাইন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “যা অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কার বা কাদের গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, ইংরেজবাজার বিধানসভার বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অম্লান ভাদুড়িও এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *