“ওমর আবদুল্লাহ আসায় BJP-র এত অস্বস্তি কেন?”-শুভেন্দুর কাশ্মীর-নিষেধের পাল্টা জবাব শশীর

বাংলার পর্যটকদের কাশ্মীর না যাওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। শুক্রবার সংক্ষিপ্ত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “বিরোধী দলনেতার কথায় কিছু যায় আসে না।” এই মন্তব্য করে তিনি এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। বৈঠকের পর ওমর আবদুল্লাহ জানান, পহেলগাঁও হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা তাঁদের মূল লক্ষ্য, এবং সেই উদ্দেশ্যে সমস্ত প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বাংলার পর্যটকদের কাশ্মীর ভ্রমণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।
ওমর আবদুল্লাহ এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জম্মু-কাশ্মীর সফরের অনুরোধ করেন। জবাবে মমতা জানান, দুর্গাপূজার পরে কোনো এক সময়ে সফরের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জম্মু-কাশ্মীরে দ্রুত শান্তি ফেরানোর বার্তা দেন।
শুভেন্দুর ‘বিপরীত অবস্থান’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’
তবে, এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় রীতিমতো বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “বাংলার হিন্দু পর্যটকরা জম্মু-কাশ্মীরে যাবেন না।” তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকদের জম্মু-কাশ্মীর যাওয়ার বিষয়ে সাবধান করে দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করেন শশী পাঁজা। তিনি তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “পর্যটকদের কাশ্মীরে যেতে নিষেধ করছেন বিরোধী দলনেতা। তবে তাঁর কথায় কিছু এসে যায় না।” দলের অবস্থান স্পষ্ট করে শশী পাঁজা বলেন, যেখানে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিরাপদ ও স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে এহেন মন্তব্য মোটেই ঠিক নয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই মন্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই করা হচ্ছে কিনা। শশী বলেন, “বিজেপি নেতারা এখন ভাবেন, তাঁরাই কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বাস্তবে তা নয়।”
বিরোধী দলনেতার তুলোধনা করে শশী পাঁজা প্রশ্ন তোলেন, “জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বাংলায় এসেছেন, তাতে বিজেপি-র এত অস্বস্তি হচ্ছে কেন?” এই মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটনকে স্বাভাবিক করার জাতীয় প্রচেষ্টার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।