বাংলাদেশি নম্বর ফোনে সেভ থাকায় বাংলার ২ শ্রমিককে আটক? ফের রেগে গেলেন মহুয়া মৈত্র

মোবাইল ফোনে ‘বাংলাদেশি নম্বর’ সেভ রাখার ‘অপরাধে’ দুই পরিযায়ী শ্রমিককে ওড়িশায় অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে— এই অভিযোগ তুলে ওড়িশা সরকারের ওপর ফের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের সাংসদ দাবি করেছেন, রবিউল শেখ এবং মহির মুন্সি নামে ওই দুই শ্রমিকের কাছে সমস্ত বৈধ ভারতীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এই তুচ্ছ কারণে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। মহুয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং ওড়িশা সরকারকে অবিলম্বে শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‘বাংলাদেশি নম্বর রাখা কি অপরাধ?’ বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ
মহুয়া মৈত্র এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার নিজের বাংলাদেশি বন্ধু আছে, কাছের আত্মীয় আছে, তাদের ফোন নম্বর সেভ করে রাখি। এবার কি বাংলাদেশি কারও ফোন নম্বর রাখাও অপরাধ? সংসদে তাহলে একটা বিল পাস করে দিন না, বাংলাদেশি কারও ফোন নম্বর রাখা অপরাধ। তাহলে একটা কারণ থাকবে।”

নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে মহুয়া একটি পোস্ট করে লেখেন, রবিউল শেখ ও মহির মুন্সিকে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ওড়িশা অবৈধভাবে আটকে রেখেছে শুধুমাত্র তাদের ফোনে একটি বাংলাদেশি নম্বর থাকার কারণে! একই যুক্তিতে সমস্ত বিসিসিআই সদস্যকে আটক করা উচিত!) এই মন্তব্যে তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক, ডিজি ওড়িশা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ট্যাগ করেছেন।

উল্লেখ্য, একদিন আগেই মহুয়া মৈত্র নদীয়ার ২৩ জন শ্রমিককে ওড়িশা পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ এনেছিলেন। তখনও তিনি দাবি করেছিলেন, শ্রমিকদের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। সেদিনও বিজেপিকে বিঁধে মহুয়া দাবি করেছিলেন, নবীন পট্টনায়কের ২৪ বছরের শাসনামলে এমন অভিযোগ আগে কখনো ওঠেনি। শ্রমিকদের মুক্তি না দিলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এদিন ফের সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় তিনি আরও একবার ওড়িশা সরকারের প্রতি অবিলম্বে আটক শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত তাদের মুক্তি না দিলে তিনি হাইকোর্টে যাবেন।

মহুয়ার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *