“ভারতের মাটিতে একটিও রোহিঙ্গা মুসলমান থাকতে পারবে না”, চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের সুরে সুর মিলিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন,”ভারতের মাটিতে একটিও রোহিঙ্গা মুসলমান থাকতে পারবে না। দেশে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও জায়গা নেই।”

শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কেও সরাসরি নিশানা করেন শুভেন্দু। বলেন,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের সময় এসে গেছে। যতই চেষ্টা করুক, কেউ আর ওঁকে বাঁচাতে পারবে না। বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও দাবি করেন,”রাজ্যে দুর্নীতি, তোষণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ। ২০২৬ সালের আগেই তৃণমূল সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী।”

শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি” করার জন্যই রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে।
“এই অনুপ্রবেশকারীরা শুধু বেআইনি ভাবেই দেশে আছে না, বরং সমাজবিরোধী কাজেও জড়িত। কেন্দ্রের সহযোগিতায় আমরা এদের একে একে দেশছাড়া করব,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন পুরনির্বাচন এবং লোকসভা ভোটের আগে রোহিঙ্গা এবং অনুপ্রবেশকারীদের ইস্যুকে সামনে এনে বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তার বার্তা ছড়াতে চাইছে বিজেপি। শুভেন্দুর এই মন্তব্য সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তৃণমূলের তরফে অবশ্য শুভেন্দুর বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে,”এটা শুধু বিভাজনের রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেয়েই এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য করছে বিজেপি।”

শুভেন্দু অধিকারীর ‘রোহিঙ্গা বিতাড়নের’ হুঁশিয়ারি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদায়ের বার্তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি এখন কোন পথে এগোবে, এবং তৃণমূল তার কী জবাব দেবে — নজর থাকবে সেদিকেই।