৭৭৮ পণ্যে বাধ্যতামূলক ISI মার্ক…! না থাকলে পরবেন এই মুশকিলে

পণ্য রপ্তানি এবং বিক্রির ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে দেশের মোট ৭৭৮টি পণ্যে আইএসআই (ISI) মার্ক বহন বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে পণ্যের গুণগত মান এবং স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুণগত মান নিশ্চিতে আইএসআই বাধ্যতা
সাধারণত বাজারে যেকোনো ধরনের পণ্য—যেমন খাবার, আসবাবপত্র, মানুষের ব্যবহারের জিনিস—এগুলোর উপর মান নির্ধারণের জন্য সরকারি সংস্থার বিশেষ চিহ্ন দেখা যায়। তবে এতদিন পর্যন্ত এমন অনেক পণ্য ছিল যাদের কোনো সরকারি চিহ্ন না থাকায় গুণগত মান এবং স্বাস্থ্যকর বিষয়গুলো প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিল।
কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ৭৭৮টি পণ্যে আইএসআই বিভাগের চিহ্নকে বাধ্যতামূলক করেছে। এই চিহ্ন না থাকলে শিল্পোদ্যোগীরা এবং বিক্রেতারা সেই পণ্য বাজারে বিক্রি অথবা রপ্তানি করতে পারবেন না।
মালদহে কর্মশালা, সহজ করা হচ্ছে পদ্ধতি
এই নতুন নির্দেশ পদ্ধতির ব্যবহার সহজ করে তুলতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মালদহের ১০৫ জন ছোট থেকে বড় শিল্পোদ্যোগীকে নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তাদের এই নতুন নির্দেশ সম্পর্কে অবগত করা হয় এবং কীভাবে সহজে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
রাজ্য বিআইএস (ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস) আধিকারিক মৈনাক গন্তৈত জানান, “বাসনপত্র, সরঞ্জাম, জুতা, খেলনা, পাখা, নাট, বোল্ট, খাবার সহ মোট ৭৭৮টি পণ্যকে আইএসআই মার্ক বহন করা বাধ্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।”
তিনি আরও যোগ করেন, কীভাবে সহজে শিল্পোদ্যোগী এবং উৎপাদনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিএসআই বিভাগের দ্বারা আইএসআই মার্ক এবং শংসাপত্র পাবেন, কীভাবে এই পদ্ধতি সহজে গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে তাদের অবগত করা হয়েছে। যারা একই ধরনের পণ্য উৎপাদন করেন, তারা চাইলে একসঙ্গে মিলেমিশে একটি ল্যাবরেটরি তৈরি করে পরীক্ষা করতে পারেন, অথবা জেলার কোনো বড় সংস্থার ল্যাবরেটরিতে গিয়ে তাদের পণ্য পরীক্ষার পরেই বিআইএস শংসাপত্র পেতে পারবেন। সরকারি এই মার্ক বহন করলে তাদের পণ্যের রপ্তানি অথবা বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে মানসম্মত মর্যাদা বাড়বে।
ক্রেতা ও উৎপাদনকারী উভয়ই লাভবান হবেন
মালদহের পণ্য ব্যবসায়ী উজ্জ্বল সাহা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই মার্ক বহন পদ্ধতির ফলে ভোক্তারা নিশ্চিতভাবে মানসম্পন্ন পণ্যকে চিহ্নিত করে কিনতে পারবেন। পাশাপাশি এই পদ্ধতি দেশে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের উৎসাহিত করে তুলতে সাহায্য করবে।”
বাজারে মূলত স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পণ্যের চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা দ্বারা নির্ধারিত চিহ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই শংসাপত্র দ্বারাই পণ্যের গুণগত মান নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে বাজারে কেনাকাটার সময় ক্রেতারা স্বাস্থ্যকর, টেকসই ও ভালো জিনিস চেনার ক্ষেত্রে আরও সজাগ হতে পারবেন। এই নতুন নির্দেশিকা দেশের ভোক্তা সুরক্ষা এবং শিল্প বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।