স্বামী রাজার মৃত্যুর পর প্রেমিক রাজকে বিয়ে করে সোনম! হানিমুন হত্যাকাণ্ডে নয়া অভিযোগে চাঞ্চল্য

স্বামীকে খুন করিয়েই প্রেমিককে বিয়ে! এমন ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানায়। কিন্তু বাস্তবেই সেই অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে। মেঘালয়ের বহুল চর্চিত ‘হানিমুন হত্যা কাণ্ডে’ এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। মৃত রাজা রঘুবংশীর দাদা বিপিন রঘুবংশীর দাবি, ভাইকে পরিকল্পনা করে খুন করার পরই প্রেমিক রাজ কুশওয়াহকে বিয়ে করেন সোনম।
মেঘালয় পুলিশের তদন্তে মেলে এই ঘটনার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র— দ্বিতীয় একটি মঙ্গলসূত্র। তদন্তকারীদের দাবি, এই মঙ্গলসূত্রই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু। সোনমের কাছে পাওয়া গিয়েছে দুটি মঙ্গলসূত্র। প্রথমটি তাঁর পরিবার উপহার দিয়েছিল রাজাকে বিয়ের সময়। কিন্তু দ্বিতীয়টির উৎস অজানা ছিল। এখন জানা গিয়েছে, সেটি রাজ কুশওয়াহর দেওয়া— প্রেমিক, যাঁর সঙ্গে মিলেই নাকি স্বামীকে খুন করেন সোনম।
বিপিনের দাবি, “ভাইকে হত্যার পর সোনম ও রাজ আত্মগোপন করেছিল। আর সেই সময়েই তারা গোপনে বিয়েও করে। দ্বিতীয় মঙ্গলসূত্র সেটারই প্রমাণ।”
ঘটনার পেছনের ভয়াবহ টাইমলাইন
২০ মে: মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন নবদম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী।
২৩ মে: চেরাপুঞ্জিতে পৌঁছনোর পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান দু’জনেই।
১১ দিন পর: গভীর জঙ্গলের এক জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার নিথর দেহ।
এর মাঝে: সোনম হঠাৎ গাজিপুর থেকে বাড়িতে ফোন করেন।
ফোনের সূত্র ধরে: পুলিশ সোনমকে খুঁজে বার করে এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বয়ানের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে অনুমান, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। প্রেমিক রাজের সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্যই স্বামী রাজার ‘বাধা’ সরাতে চান সোনম। সেই পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল রাজ এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগী। রাজাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় এবং সেই কাজের জন্য অভিযুক্তদের টাকা দেয় রাজ কুশওয়াহ।
পুলিশের দাবি, খুনের পরে রাজের সঙ্গে আত্মগোপন করে সোনম। শুধু তাই নয়, সেই সময়ই দু’জনে গোপনে বিয়েও করেন বলে আশঙ্কা তদন্তকারীদের। এখন তদন্ত চলছে, এই বিয়ের কোনও নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে কি না।