পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে ভারত-সহ ৪ দেশের উপর ক্ষুব্ধ কিম জং উন, জেনেনিন কেন?

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং সাইবার হামলার অভিযোগ নিয়ে এবার সরাসরি ভারত-সহ কোয়াডভুক্ত চারটি দেশের উপর চটেছেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) সূত্রে খবর, আমেরিকা, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছে কিমের সরকার। কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর সাম্প্রতিক বৈঠক এবং তাদের জারি করা বিবৃতির পরেই এই প্রতিক্রিয়া জানাল পিয়ংইয়ং।
জুলাই মাসের শুরুতে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে কোয়াডভুক্ত দেশগুলির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয় এবং উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের উপর জোর দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতেই ভারত সহ কোয়াডভুক্ত দেশগুলির কড়া নিন্দা করেছে উত্তর কোরিয়া।
শুধু তাই নয়, উত্তর কোরিয়া থেকে সাইবার হামলা চালানো হতে পারে বলে আমেরিকা যে ‘ভুয়ো প্রচার’ চালাচ্ছে, তার জন্যেও আমেরিকাকে একহাত নিয়েছে কিমের সরকার। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, এই ধরনের তথ্য আমেরিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বানাচ্ছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর কোয়াডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, কিমের দেশ ক্রমাগত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে চলেছে। এটিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পরেই এই নিয়ে পাল্টা সরব হলো উত্তর কোরিয়া, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেন, আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করেছিল যে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বিশ্বজুড়ে সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলির গোপন পারমাণবিক এবং সামরিক তথ্য চুরি করার চেষ্টা করছে। তখন দাবি করা হয়েছিল যে, কোরিয়ান হ্যাকাররা ভারত, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান-সহ অনেক দেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিম জং উনের বর্তমান আক্রমণ সেই পুরোনো অভিযোগের সূত্র ধরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।
এই ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং পরমাণু ইস্যুতে তার অনড় অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।