বোর্ডের নির্দেশ অমান্য জাদেজার, নিয়ম ভাঙলেও শাস্তিহীন অলরাউন্ডার, জেনেনিন কেন?

অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজ হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দলের শৃঙ্খলার জন্য বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল, মাঠে আসার সময় দলের সব খেলোয়াড়কে এক বাসেই আসতে হবে। তবে এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই নিয়ম ভেঙেও কোনো শাস্তি পাচ্ছেন না ভারতের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। এর পেছনে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত অনুশীলনের আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স।
কেন শাস্তি পেলেন না জাদেজা?
জানা গেছে, এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন মাঠে নামার আগে রবীন্দ্র জাদেজা একাই সবার আগে স্টেডিয়ামে চলে এসেছিলেন। এর কারণ ছিল, তিনি নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে চেয়েছিলেন, যাতে ইংল্যান্ডের পেসারদের নতুন বলের আক্রমণ ভালোভাবে সামলাতে পারেন। দিনের শেষে জাদেজা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। যেহেতু তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে এবং অনুমতি নিয়েই এই কাজটি করেছেন, তাই এই বাঁহাতি তারকাকে বোর্ডের নিয়ম ভাঙার জন্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর এই পেশাদারী মনোভাব এবং দলের প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
জাদেজার প্রতিক্রিয়া:
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে নিজের পারফরম্যান্স এবং নিয়ম ভাঙার বিষয়ে জাদেজা বলেন, “আমার মনে হয়েছিল যে আমার আগে একটু ব্যাটিং করে নেওয়া উচিত, কারণ বল তখনও নতুন ছিল। আমার মনে হয়েছিল যদি একটু নতুন বল খেলে নেওয়া যায় তাহলে বাকি ইনিংস খেলতে সুবিধা হবে। সৌভাগ্যবশত আমি লাঞ্চ পর্যন্ত খেলার পর ওয়াশিংটন (সুন্দর) এসেও (শুভমন) গিলের সঙ্গে ভালো সেট হয়ে যায়।”
ইংল্যান্ডের পিচের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যোগ করেন, “ইংল্যান্ডের উইকেটে যত বেশি বল খেলা যায় ততই ভালো, তবে এখানে সেট হওয়া যায় না। কারণ ইংল্যান্ডের যেমন পরিবেশ, পিচ, তাতে বল যখন তখন সুইং হয়।”
নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জাদেজা বলেন, “দলকে যখন ব্যাট হাতে ভালো কিছু করতে পারি তখন ভালো লাগে, আর বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে দলের আরও বেশি করে দরকার এগুলো, তাই ভালো লাগছে খুব। ৫ উইকেটে ২১০ রান থেকে এত বড় পার্টনারশিপ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ভালোই লাগছে। এটা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল, আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করি। এই ধরণের চ্যালেঞ্জই পরের ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।”
জাদেজার এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল যে, কঠোর অনুশীলন এবং খেলার প্রতি একাগ্রতাই একজন খেলোয়াড়কে দলের জন্য অপরিহার্য করে তোলে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রমও তাকে মেনে নেওয়া হয়।