‘কেউ থাকতে চাইলে আটকাব না’, সাংসদদের বিদ্রোহে উত্তাল মাতোশ্রী! মহাজোটের কপালে কি চিন্তার ভাঁজ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আবহে এবার মহারাষ্ট্র থেকেও উঠে এল বড়সড় রাজনৈতিক অস্থিরতার খবর। একনাথ শিন্ডের শিবসেনার দাবি, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT)-র ৯ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৭ জন তাঁদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন। বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই এই সাংসদদের শিবির বদলের সম্ভাবনা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা।
বিস্ফোরক দাবি শিন্ডে শিবিরের: শিন্ডে গোষ্ঠীর বিধান পরিষদ সদস্য কৃপাল তুমানে দাবি করেছেন, উদ্ধবের দলের সাংসদরা তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। সূত্রের খবর, গত ৭ জুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের বাসভবনে শিন্ডে শিবির ও ইউবিটি-র একাধিক সাংসদের মধ্যে এক গোপন বৈঠকও হয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, দলবদল করলে ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধবের সাফ বার্তা: পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ‘মাতোশ্রী’তে জরুরি বৈঠক ডাকেন উদ্ধব ঠাকরে। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কেউ দল ছাড়তে চাইলে আমি আটকাব না। তবে মনে রাখবেন, কঠিন সময়ে দল ছেড়ে গেলে ভবিষ্যতে তার ফল ভুগতে হবে।”
পাল্টা আক্রমণে সঞ্জয় রাউত: শিন্ডে শিবিরের সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, “আমাদের সংসদীয় দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। সব সাংসদই উদ্ধবজির নেতৃত্বে আস্থা রেখেছেন। বিভ্রান্তি ছড়াতে মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে ইউবিটি সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের সাক্ষাৎকেও তিনি নিছক ‘ব্যক্তিগত’ বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের উদ্বেগ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দাবি ২০২২ সালের শিবসেনা ভাঙনের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। সেবার ৫৫ জন বিধায়কের মধ্যে ৪০ জন শিন্ডের পক্ষে চলে যাওয়ায় ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। এবার যদি সত্যিই ইউবিটি-র অধিকাংশ সাংসদ শিবির বদল করেন, তবে তা মহা বিকাশ আঘাড়ি জোটের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
বর্তমানে শিন্ডে শিবিরের দাবি এবং উদ্ধব শিবিরের পাল্টা বক্তব্যের মাঝে দাঁড়িয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
পাঠক, আপনার কি মনে হয় উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে কি তবে আরও একবার ক্ষমতা ফস্কে যেতে চলেছে? মতামত জানান কমেন্ট বক্সে।