কাকলি-সুদীপ-শতাব্দীদের আদৌ দলে নেবে কি NCPI? জেনেনিন বড় আপডেট

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। দলত্যাগের জল্পনা জিইয়ে রেখেই এবার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর হাত ধরলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। মঙ্গলবার বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিশ্চিত করেছেন যে, বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নিতে সম্মতি দিয়েছে এনসিপিআই।
এনডিএ-র পথে বিদ্রোহী শিবির: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদরা ইতিমধ্যেই তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। এনসিপিআই আমাদের দলে নিতে আগ্রহী। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে মিলে কাজ করতে চাই।”
বেড়েছে বিদ্রোহী সংখ্যা: সাংসদের দাবি অনুযায়ী, এই বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুরুতে ২০ জন সাংসদ থাকলেও, এখন তা বেড়ে ২২ জন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান যেন স্বচ্ছ থাকে, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন কাকলি। এর আগে রবিবারই স্পিকারের কাছে তাঁরা আবেদন জানিয়েছিলেন, সংসদ কক্ষে তাঁদের যেন বিরোধী বেঞ্চের বদলে এনডিএ-র সঙ্গে বসার জায়গা দেওয়া হয়।
তৃণমূল বিধায়কদের সাথে দূরত্ব: রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের কোনো যোগাযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন কাকলি। তিনি বলেন, “বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে রাজ্যের বিধায়কদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা একটি আলাদা গোষ্ঠী এবং তাঁদের কর্মসূচি ও লক্ষ্য ভিন্ন।” তৃণমূলের সাংসদরা তৃণমূলেই থাকছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এনডিএ-র সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার এই সিদ্ধান্ত যে তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ, তা বলাই বাহুল্য।
নতুন দল NCPI কি? নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই NCPI। এতদিন সেভাবে পরিচিত না হলেও, তৃণমূল সাংসদদের এই যোগদানের ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে দলটি।
এখন দেখার, স্পিকার এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন এবং তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ বাংলার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।