ভরা মঞ্চে চড় মারতে উদ্যত মুখ্যমন্ত্রী, সকলের সামনে অপমান, ইস্তফা দিলেন পুলিশকর্তা

ক্ষমতার দাপটে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্ন আবারও সামনে এল দুটি ভিন্ন ঘটনায়। একদিকে কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে অপমানিত হয়ে এক এএসপি’র স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে এক তৃণমূল নেতার কদর্য ভাষায় আক্রমণ সত্ত্বেও এক আইসি’র নীরব থাকা — এই দুই চিত্র পুলিশ প্রশাসনের মর্যাদা এবং রাজনৈতিক চাপের ভিন্ন রূপকে ফুটিয়ে তুলছে।
চলতি বছর এপ্রিল মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে মঞ্চে উপস্থিত ধাওয়ার জেলার এএসপি নারায়ণ বারামনিকে চড় মারতে উদ্যত হতে দেখা যায়। কংগ্রেসের একটি অনুষ্ঠানে বিজেপির মহিলা কর্মীরা মঞ্চের খুব কাছে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, যা দেখে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এএসপিকে ডেকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি, যেই হও না কেন, এখানে এসো, তুমি কী করছিলে?’
এই ঘটনায় গভীরভাবে অপমানিত বোধ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নারায়ণ বারামনি। তার এই ‘অপমানের’ প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বারামনির এই পদক্ষেপ প্রশাসনের উচ্চ পদাধিকারীদের মধ্যে নৈতিকতা এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কর্ণাটকের এই ঘটনার পরেই ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে ফের সামনে এসেছে বীরভূমের বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের প্রসঙ্গ। সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপে তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য, যেখানে বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি এবং এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে (যদিও ভিডিও/অডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন) অত্যন্ত কদর্য ভাষায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে আক্রমণ করতে শোনা গিয়েছিল। শুধু আইসি নন, তার মা-স্ত্রীকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অনুব্রত। মিছিলের জমায়েতে পুলিশি রিপোর্ট নিয়েও আইসির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শোনা গিয়েছিল তাকে।
ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে কর্ণাটকের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে অপমানিত হয়ে পদত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একজন আইসি কীভাবে একজন ‘সাধারণ তৃণমূল নেতা’র (যেমনটা অনেকে বলছেন) কাছ থেকে এমন অশ্রাব্য গালিগালাজ শুনেও নীরব শ্রোতা হয়ে থাকতে পারেন? এটি কি রাজনৈতিক চাপের ফল, নাকি পুলিশ প্রশাসনের নিজস্ব দুর্বলতা?
এই দুটি ঘটনা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং তাদের আত্মমর্যাদার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে যেখানে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার অপমানের প্রতিবাদে পদত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন, সেখানে অন্য একজন একই ধরনের, এমনকি আরও কদর্য আক্রমণের মুখেও নীরব থাকছেন। এই ঘটনাগুলি পুলিশি নিরপেক্ষতা, তাদের পেশাগত মর্যাদা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।