মাঝরাতে ‘বাবাগো-মাগো’ চিৎকার, দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই ভয়ানক দৃশ্য! বৈদ্যবাটিতে রহস্যমৃত্যু যুগলের

হুগলির বৈদ্যবাটিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক যুগলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ রাত তিনটে নাগাদ বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীতারাম বাগান এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। মৃতদের নাম মণীশ ভাদুড়ি ও অপর্ণা মাঝি।
ঘটনার বিবরণ: মণীশ ভাদুড়ির পৈতৃক বাড়ি বৈদ্যবাটি রাজার বাগানে হলেও, তিনি গত ছয় বছর ধরে অপর্ণা মাঝির সঙ্গে সীতারাম বাগানে ভাড়া থাকতেন। বুধবার গভীর রাতে তাদের প্রতিবেশী শুভেন্দু মাঝি “বাবাগো-মাগো” বলে চিৎকার শুনতে পান। চিৎকার শুনে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঘরের মধ্যে একজন এবং ঘরের বাইরে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তারা বেশ কিছুক্ষণ ছটফট করছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরা দ্রুত রাজার বাগানে মণীশের বাড়ির লোকেদের খবর দেন। তারাই পুলিশে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিবেশীদের অনুমান: জানা গেছে, মণীশ একটি ঢালাই কারখানায় কাজ করতেন এবং অপর্ণা পরিচারিকার কাজ করতেন। দুজনেই সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন এবং রাতে বাড়ি ফিরতেন। প্রতিবেশীরা জানান, মণীশ নেশা করতেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হতো। তাদের অনুমান, নিজেদের মধ্যে মারামারি করার সময় ধারালো কিছু দিয়ে একে অপরকে আঘাত করে থাকতে পারেন।
পুলিশি তদন্ত: ঘটনার তদন্তে আসেন চন্দননগর পুলিশের ডিসিপি শ্রীরামপুর অর্ণব বিশ্বাস এবং আইসি শ্রীরামপুর সুখময় চক্রবর্তী। ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিক ভাবে তাদের মনে হয়েছে, ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, রাতের বেলা কেউ তাদের বাড়িতে এসেছিল কিনা এবং ঘটনার পেছনে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাত আছে কিনা। এই রহস্যজনক মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ দ্রুত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।