যোগ শেখানোর নামে একি হতো আশ্রমে…? স্বঘোষিত ‘বাবা’র আশ্রমে যা মিলল! পুলিশ ধরতেই পর্দাফাঁস

শান্তির বার্তা, সুস্থ জীবন আর আধ্যাত্মিকতার মোড়কে চলছিল অবাধে মাদক ব্যবসা। যোগ শেখানোর আড়ালে আশ্রমেই নিয়মিত বসত গাঁজা সেবনের আসর, মাদক পাচারও করতেন খোদ স্বঘোষিত ‘যোগগুরু’। ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার প্রজ্ঞাগিরি এলাকায় অবস্থিত এক আশ্রমে অভিযান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মাদক চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ওই আশ্রমে তল্লাশি চালিয়ে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, এবং বৃহস্পতিবার চক্রের মূল হোতা, যোগগুরু বাবাকান্তি আগরওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সহযোগীদেরও জেরা করছে পুলিশ।
গোয়া থেকে ছত্তিশগড়: মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বাবাকান্তি আগরওয়াল গোয়াতে বিদেশি পর্যটকদের যোগা শেখাতেন এবং সেখান থেকেই তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে সে গোয়া, ছত্তিশগড় সহ একাধিক জায়গায় আশ্রম খোলে। অভিযোগ, এই আশ্রমগুলিতে যোগা শেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত যোগগুরু মাদক বিক্রি করত। পুলিশের অনুমান, মাদকের টানেই এই আশ্রমগুলিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ত। যদিও গোয়ার আশ্রমে এখনও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়নি, তবে তদন্তকারীদের অনুমান সেখান থেকেও মাদক উদ্ধার হতে পারে।
জেরায় স্বীকারোক্তি, এনজিও-র যোগসূত্র?
পুলিশি জেরায় বাবাকান্তি আগরওয়াল মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্ত যোগগুরু একাধিক সংস্থা ও এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে, সেই সব সংস্থা বা এনজিও-র মাধ্যমেও মাদক পাচার করা হত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে। তাদের খোঁজে জোরদার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, আধ্যাত্মিকতার মুখোশের আড়ালে কী ভয়ংকর অপরাধ চক্র গড়ে উঠতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ, উভয়ই এই ঘটনায় স্তম্ভিত। সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের এই পদক্ষেপ মাদক চক্রের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে বিবেচিত হচ্ছে, তবে এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত, তা জানতে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন।