দিঘায় জগন্নাথ মন্দির বানাতে শুভেন্দুর কাছে পরামর্শ চান মমতা! অতঃপর….

দিঘার জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার নিয়ে ফের চর্চায় রাজনৈতিক মহল। এই মন্দির তৈরির সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের—সেই প্রশ্নই তুললেন তাঁর মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য তথা বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু দাবি করেন, এই মন্দির নির্মাণের ভাবনা প্রথমে তিনিই শুনেছিলেন মমতার মুখে।

শুভেন্দু বলেন, একবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পূজারীদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েই সেখানে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পরামর্শ চান শুভেন্দুর কাছ থেকে।

তাঁর কথায়, দিঘার সমুদ্রতটের কাছে একটি ছোট জগন্নাথ মন্দির আগে থেকেই ছিল। সেটিকে বড় করে তৈরি করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শুভেন্দুর দাবি, তিনি তখনই জানান—সেই এলাকা পরিবেশগতভাবে সংরক্ষিত, তাই সেখানে কোনও স্থায়ী নির্মাণ সম্ভব নয়। পরে রাস্তার ওপারে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে মন্দির ও কালচারাল সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ধর্মস্থান বানানো উচিত নয়। সেটা হলে ট্রাস্টের মাধ্যমে করতে হয়। যেটা তৈরি হয়েছে, সেটা মন্দির নয়, সেটা ভাস্কর্য।” তাঁর দাবি, এই পুরো উদ্যোগ ছিল পুরীর মন্দিরকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করেছেন, পুরীর মন্দিরের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। দিঘায় জগন্নাথ ধাম তৈরি হলেও তা পুরীর বিকল্প নয়, বরং ভক্তদের জন্য এক নতুন তীর্থক্ষেত্র। তবে শুভেন্দুর কথায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্পের ভাবনা এসেছিল, এবং তা বাস্তবায়নও হয়েছে দ্রুত গতিতে।

এই মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।