পথ দুর্ঘটনা এড়াতে তৎপর রাজ্য, ২২০০ সেতুর পরীক্ষা শুরু! জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সেতু দুর্ঘটনার ঘটনা রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যজুড়ে সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে, এবং এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে পূর্ত দফতর।
গুরুত্বপূর্ণ ১৫০ সেতুতে বাড়তি সতর্কতা:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ২২০০টির বেশি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫০টি সেতুর অবস্থা নিয়ে সরকার বিশেষভাবে সতর্ক। এই সমস্ত সেতুর পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত মেরামতি বা পুনর্গঠনের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নির্মীয়মাণ পোস্তা সেতু এবং ২০১৮ সালে মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার মতো বড় দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজ্য সরকার সেতু নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি তৎপর হয়েছে। ওই দুটি ঘটনার পরেই কলকাতা এবং জেলার একাধিক সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ টালা সেতু ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
তিন জোনের মুখ্য ইঞ্জিনিয়ারদের উপর দায়িত্ব:
পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের সমস্ত ২২০০টিরও বেশি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনটি জোনের মুখ্য ইঞ্জিনিয়ারদের। তাঁদের দ্রুত রিপোর্ট প্রস্তুত করে পূর্ত দফতরের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো— প্রতিটি সেতুর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা, দুর্বলতা চিহ্নিত করা, এবং সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে কিছু সেতুতে হাইট বার বসানো, ভারী যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ:
কেএমডিএ-এর এক কর্তা মন্তব্য করেছেন, “স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক হলেও, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সেতু বিপর্যয়ের ঘটনা না ঘটে।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কলকাতা ও শহরতলির সেতুগুলিতে রেল ও সড়কপথের উপর অতিরিক্ত লোড, দখলদার সমস্যা এবং বার্ধক্যজনিত অবস্থা বড় চিন্তার কারণ। পাশাপাশি শহরের অব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ নির্মাণও অনেক ক্ষেত্রে সেতুর স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ।
পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাধারণ মানুষ সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, কারণ বিগত কয়েক বছরের সেতু দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনো তাঁদের মনে টাটকা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সময়ে সময়ে অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ রাজ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যৎ সেতু বিপর্যয় রুখতে রাজ্য সরকার কতটা সফল হয়।