মেছুয়াবাজারে আগুনের রেশ না কাটতেই ফের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণে বাঁচলেন প্রায় ৫০ জন

মেছুয়াবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। রবিবার মাঝরাতে দক্ষিণ কলকাতার শরৎ বোস রোডের একটি তিনতলা হোটেলে আগুন লাগে। রাত ১টা নাগাদ এই অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ালেও, কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। হোটেলে থাকা প্রায় ৫০ জন গ্রাহক ও কর্মী অক্ষত অবস্থায় প্রাণে বেঁচেছেন।
জানা গেছে, হোটেলের কনফারেন্স রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও, মুহূর্তে তা অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো হোটেল চত্বর। গভীর রাত হওয়ায় সে সময় অনেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আগুন লাগার পরেই হোটেলে হুলুস্থুল পড়ে যায়। কর্মী ও গ্রাহকরা চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করে দেন এবং আগুনের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত দমকলে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে ৩টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এলেও, আগুনের তীব্রতা দেখে আরও ২টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দমকল কর্মীরা ভিতরে ঢোকার সময়ই কালো ধোঁয়ায় বাধার সম্মুখীন হন। কোনোমতে ভেতরে পৌঁছে প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করেন তাঁরা। শেষমেশ প্রায় ঘণ্টাখানেকের নিরলস লড়াইয়ের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে হোটেলের একাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং হোটেলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে বড়বাজারের মেছুয়াবাজারে একইরকমভাবে একটি হোটেলে আগুন লেগে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই হোটেলের ঘরে জানলা না থাকায় অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছিল ধোঁয়ার কারণে শ্বাস বন্ধ হয়ে। ওই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শরৎ বোস রোডের এই ঘটনা কলকাতার হোটেলগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে দমকল। পুলিশ ও দমকল জানিয়েছে, হোটেলের সকলে নিরাপদে আছেন। পরপর এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শহরের হোটেলগুলোর নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টিকে আবারও সামনে আনছে।