দাউ দাউ করে জ্বলছে রাজস্থান! কুম্ভলগড় অভয়ারণ্যে ৪ দিন ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে আগুন, বিপন্ন বন্যপ্রাণ

রাজস্থানের পালি জেলার কুম্ভলগড় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে প্রকৃতির রুদ্ররূপ! গত চার দিন ধরে এই অভয়ারণ্যে জ্বলছে ভয়াবহ দাবানল, যা এখনও সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত। প্রবল বাতাসের তোড়ে আগুনের শিখা দ্রুত নলওয়ানিয়া বাঁধ এবং সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনের এই ভয়াবহতা পুরো অঞ্চলে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

রাতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে আগুন
দিনের বেলায় আকাশে শুধুই ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলেও, রাত বাড়ার সাথে সাথে আগুন আরও বীভৎস রূপ ধারণ করছে। সাদরি শহর এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর উঁচু দালান থেকে পাহাড়ের ওপর আগুনের সেই লাল আভা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগুনের গর্জন ও লেলিহান শিখা দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অগ্নিনির্বাপণে প্রধান বাধা ‘হাওয়া’
বন বিভাগের একাধিক দল দিনরাত এক করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটি বিষয়:

প্রবল বাতাস: বাতাসের তীব্র গতি আগুনের ফুলকিকে দ্রুত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে।

দুর্গম ভূখণ্ড: পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা কর্মী পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বিপন্ন বন্যপ্রাণ ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য
এই দাবানলে বনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হাজার হাজার গাছ, গুল্ম ও বিরল ঔষধি উদ্ভিদ। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বনের পশু-পাখিরা।

আগুনের হাত থেকে বাঁচতে দিশেহারা হয়ে বনের ছোট-বড় বহু প্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ের দিকে ছুটছে।

নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশাসনের তৎপরতা: বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে কুম্ভলগড়ের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।