অমিতাভকে রিজেক্ট করেছিলেন, কিন্তু রাজ বাব্বরকে দেখেই মুগ্ধ হন বি আর চোপড়া! নেপথ্যে কোন রহস্য?

বলিউড মানেই পর্দার পেছনের হাজারো গল্প। যশ চোপড়ার ছবিতে অমিতাভ বচ্চন যেভাবে ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তাঁর বড় ভাই তথা কিংবদন্তি বি আর চোপড়া কেন অমিতাভকে নিয়ে সেই জাদু তৈরি করতে পারেননি, তা নিয়ে বলিউডে গুঞ্জনের শেষ নেই। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যে অমিতাভকে একসময় ট্যালেন্ট হান্ট থেকে বাতিল করেছিলেন বি আর চোপড়া, সেই প্রতিযোগিতাতেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর ‘মানসপুত্ৰ’ রাজ বাব্বরকে।

অমিতাভ বনাম রাজ বাব্বর: ভাগ্যের অদ্ভুত খেলা
বলিউডের ইতিহাসের পাতায় একটি গল্প আজও অমলিন। অমিতাভ বচ্চন যখন ক্যারিয়ারের শুরুতে संघर्ष করছেন, তখন একটি ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন বি আর চোপড়া। সেখানে তিনি অমিতাভকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করেন। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই একই মঞ্চে রাজ বাব্বরের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন তিনি। বি আর চোপড়া শুধু তাঁর প্রশংসাই করেননি, বরং রাজ বাব্বরকে বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘গডফাদার’-এর ভূমিকা পালন করেন।

জরুরি অবস্থা ও সেই মাঝরাতের ফোন
১৯৭৫ সালের সেই উত্তাল জরুরি অবস্থা বদলে দিয়েছিল বলিউডের অনেক সমীকরণ। রাজ বাব্বর সেই বছর ট্যালেন্ট হান্টে নির্বাচিত হলেও সরকারি কড়াকড়ির কারণে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ‘মাধুরী’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক অরবিন্দ কুমার জানান, এক মাঝরাতে বি আর চোপড়া তাঁকে ফোন করে আতঙ্কের সুরে বলেছিলেন, “প্রতিযোগিতাটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” বিজয়ীদের নাম ঘোষণা না হওয়ায় বি আর চোপড়া ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছিলেন এবং রাজ বাব্বরকে অঘোষিত বিজয়ী মেনেই নিজের ছবিতে কাজ দেওয়া শুরু করেন।

কেন রাজ বাব্বরেই মজেছিলেন বি আর চোপড়া?
অডিশনের সময় রাজ বাব্বরের একটি বিশেষ ভঙ্গি বি আর চোপড়াকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাজ সংলাপ বলার সময় নিজের মাথায় চড় মারা, জিভে কামড় দেওয়া এবং লজ্জা পেয়ে হাসার যে ভঙ্গি করেছিলেন, তাতেই মুগ্ধ হন পরিচালক। বি আর চোপড়া সামাজিক চলচ্চিত্রের কারিগর ছিলেন। রাজ বাব্বরকে তিনি ‘ইনসাফ কা তারাজু’, ‘নিকাহ’ এবং ‘আজ কি আওয়াজ’-এর মতো শক্তিশালী ছবিতে সুযোগ দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন। বিশেষ করে ‘ইনসাফ কা তারাজু’-তে রাজ বাব্বরের সেই বিতর্কিত খলনায়কের চরিত্রটি আজও বলিউডের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।

বি আর চোপড়া কি অমিতাভকে এড়িয়ে চলতেন?
না, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। বড় ভাই বি আর চোপড়া তাঁর ভাই যশ চোপড়াকে দিয়ে ১৯৭৫-এ ‘দিওয়ার’ পরিচালনা করালেও, একই বছরে নিজের ব্যানারে অমিতাভকে নিয়ে ‘জমীর’ প্রযোজনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বি আর ফিল্মস-এর ব্যানারে ‘বাগবান’ এবং ‘বাবুল’-এর মতো সুপারহিট ছবিতে অমিতাভ অভিনয় করেছেন। অমিতাভও আজীবন বি আর চোপড়াকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।

উপসংহার: বি আর চোপড়া এবং রাজ বাব্বরের এই রসায়ন প্রমাণ করে যে, প্রতিভা কখনও না কখনও সঠিক জহুরির চোখ খুঁজে পায়। অমিতাভ হয়তো বি আর চোপড়ার পরিচালনায় অভিনয়ের সুযোগ পাননি, কিন্তু রাজ বাব্বরকে তৈরি করে বি আর চোপড়া বলিউডকে এক বিরল অভিনেতা উপহার দিয়ে গেছেন।