বাংলাদেশের ইতিহাস মুছতে মরিয়া ইউনূস, বদলে দিলেন টাকাই! কি হবে পুরনো নোটের?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এবার মুদ্রার ডিজাইনও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১লা জুন, রবিবার, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইনের ব্যাংক নোট প্রকাশ করেছে, যেখানে দেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অনুপস্থিত। এর পরিবর্তে স্থান পেয়েছে ধর্মীয় স্থান, ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি। এই পদক্ষেপ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল মুদ্রায় শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল, যা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তাঁর আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু নতুন এই পরিবর্তনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যার মূল কাজ একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা, কীভাবে এমন একটি বড় এবং সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে? সমালোচকদের মতে, মুদ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই থাকা উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নোট বদল প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন সিরিজ ও ডিজাইনের অধীনে এবার থেকে আর কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের ছবি থাকবে।” নতুন নোটে হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মস্থানের ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই স্থান পেয়েছে প্রয়াত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের আঁকা ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলার ছবি। বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে ফেলা হলেও, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ বেদির ছবিকে নতুন নোটে স্থান দেওয়া হয়েছে।
মোট নয়টি ভিন্ন মূল্যমানের নোট তৈরি করা হয়েছে। রবিবার তিনটি নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে এবং বাকি নোটগুলিও ধাপে ধাপে বাজারে আনা হবে বলে জানা গেছে।
পুরনো নোটের ভবিষ্যৎ কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আপাতত বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত পুরনো নোটগুলি বাতিল করা হচ্ছে না। সেগুলো বাজারে চালু থাকবে এবং বাংলাদেশের মানুষ সেই নোট ও কয়েন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, ব্যাংক আর নতুন করে বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ নোট ছাপাবে না। এর অর্থ হলো, সময়ের সাথে সাথে পুরনো নোটগুলি বাজার থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং নতুন ডিজাইনই মূল মুদ্রা হিসেবে চালু হবে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে মুদ্রার নকশা পরিবর্তনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও যখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনপি) ক্ষমতায় ছিল, তখনও তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ছবি ছাপিয়েছিল ব্যাংক নোটে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, যারা শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে মরিয়া বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের এই পদক্ষেপকে অনেকে সেই ধারারই অংশ হিসেবে দেখছেন। শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যেই দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাঁর পৈত্রিক ভিটেমাটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাঠক্রম থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার পর এবার মুদ্রা থেকেও তাঁর ছবি অপসারণ – এসব পদক্ষেপ ইউনূস সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও বেশি জল্পনা তৈরি করছে।