সরকারি কর্মীদের জন্য ‘খারাপ খবর’! কবে কার্যকর হবে অষ্টম বেতন কমিশন? জানুন বিস্তারে

সময়টা ২০২৫-এর মাঝামাঝি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে শীঘ্রই আসছে সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission)-এ সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বর্তমান সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ৩১শে ডিসেম্বর। খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই নতুন অষ্টম পে কমিশন গঠন করা হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, কবে থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে? এই মুহূর্তে এটাই লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর প্রধান জিজ্ঞাসা। কারণ নতুন কমিশন মানেই বেতন এবং অন্যান্য ভাতার এক বড়সড় বৃদ্ধি। হাতে আর মাত্র সাত মাস। তবে বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে অষ্টম বেতন কমিশন কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে, তা এখনই জোর দিয়ে বলা মুশকিল।
অতীতে দেখা গেছে, বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি কার্যকর করতে সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যায়। এদিকে, এখনও পর্যন্ত কমিশনের চেয়ারপারসন বা অন্য সদস্যদের নিয়োগ নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এই অবস্থায় ২০২৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে নয়া পে কমিশন চালু হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।
তবে একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে – যদি কোনও সরকারি কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে অবসর নেন, কিন্তু তার আগে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর না হয়, তাহলে কি তিনি নতুন কমিশনের সুবিধা পাবেন? উত্তর হল, হ্যাঁ। এই ধরনের সমস্ত সরকারি কর্মচারী বকেয়া হিসেবে বেতন সংশোধনের সুবিধা অবশ্যই পাবেন।
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে – কতটা বাড়বে বেতন? নতুন পে কমিশন চালু হলে প্রায় ১ কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। বাড়বে তাঁদের মূল বেতন এবং অন্যান্য ভাতা। অষ্টম বেতন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, এবারের কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কমপক্ষে ২.৫৭ হওয়া উচিত।
মনে রাখা যাক, সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। যার ফলে কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে ১৮ হাজার টাকা হয়েছিল। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ১.৯২। সরকারি কর্মীরা আশা করছেন, অষ্টম বেতন কমিশনে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হতে পারে। কারণ এই একটি ফ্যাক্টরই সমগ্র বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
২০১৬ সালে যখন সপ্তম বেতন কমিশন ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রস্তাব করেছিল, তখন ন্যূনতম বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল। বেতন সংশোধন মূলত এই ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর উপরেই নির্ভরশীল। এটি আসলে বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে প্রয়োগ করা একটি গুণক।
অষ্টম পে কমিশনে কর্মীদের বেসিক পে-র পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা (DA), ভ্রমণ ভাতা (TA), চিকিৎসা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা ভাতা এবং বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA)-এর মতো বিভিন্ন ভাতাও সংশোধন করা হবে। এর ফলে চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে পেনশনভোগী সকলেই উপকৃত হবেন, এমনটাই আশা করা যাচ্ছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে এই সুখবর বাস্তবে রূপ নেয়