“আপনি আসছেন যখন খালি হাতে আসছেন কেন?”, উত্তরবঙ্গ সফরে মোদীকে কটাক্ষ কুনাল ঘোষের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজ পশ্চিমবঙ্গে আগমনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে। আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস তাকে ‘ভোটপাখি’ বলে কটাক্ষ করেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন, এবং তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সরাসরি আক্রমণ শানানো হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই আগে না আপনাদের এই সস্তা রাজনীতি আগে?” একইসাথে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “যে দলের সাধারণ সম্পাদক (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা দিচ্ছেন আর আপনি সেই দলের সরকারের বিরুদ্ধে, সেই রাজ্যে এসে কুৎসা করছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অবস্থান ঠিক করে দিয়েছেন, এখন দলের সবাই দেশের পাশে, তখন এই সস্তা রাজনীতি, নরেন্দ্র মোদী আপনারা চান কী? যখন তৃণমূল কংগ্রেস এক দেশভক্ত রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করছে তখন আপনি আসছেন সেই রাজ্যে রাজনীতি করতে?”

কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দুটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথম প্রশ্নটি হলো, “যখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস, রাজ্য সরকার পুরোপুরি দেশের স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে থাকছে, যখন দেশের স্বার্থে দেশের বার্তা দিতে বিশ্বের নানা দেশে পাকিস্তানকে আক্রমণ করছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন পশ্চিমবঙ্গে এরকম অনুষ্ঠান কেন?”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, “আপনি কেন কাশ্মীর যাননি, আপনি কেন মণিপুর যাননি? এখন সৌজন্য রেখে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অনেক কথাই বলা হচ্ছে না। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা অনেক আক্রমণ করা যেতে পারে কিন্তু সৌজন্যবশত তা হচ্ছে না।”

কুণাল ঘোষের দ্বিতীয় প্রশ্ন ও বক্তব্য ছিল বাংলার বকেয়া টাকা নিয়ে। তিনি বলেন, “আপনি আসছেন যখন খালি হাতে আসছেন কেন, কেন বাংলার বকেয়া টাকা দিচ্ছেন না, মনরেগার টাকা দেননি? একশো দিনের টাকা দিন, বাংলার বাড়ির টাকা দিন, আপনারা বাংলার মানুষকে কাজ করিয়ে টাকা দেননি, সেই টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকার দিয়েছে। রাজ্যের ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আছে। আপনারা টাকা দিচ্ছেন না আর এখন আসছেন রাজনীতি করতে! রাজ্যে উন্নয়নের সরকার চলছে। তৃতীয়বারের সরকার চতুর্থবারও আসবে মা–মাটি– মানুষের সরকার।”

এছাড়া, কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দুটি সরকারি দাবি রেখেছেন। তিনি বলেছেন:

১. “অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য রাখবেন না। সেনাবাহিনীর লড়াইকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ফায়দা তোলার জন্য রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করবেন না।”
২. “বাংলার বকেয়া বাংলাকে দিন। বাংলা থেকে করের টাকা তুলে নিয়ে যাবেন বাংলার বকেয়া দেবেন না? মুখের কথা নয় শব্দের জাগলারি নয়। দেশের প্রশ্ন একতা না সস্তার রাজনীতি কোনটা চান প্রধানমন্ত্রী? বিশেষ অধিবেশন ডাকুন। সবার জানার অধিকার আছে।”

কুণাল ঘোষ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে তৃণমূলের অবদান তুলে ধরে বলেন, “উত্তরবঙ্গে যে উন্নয়ন হয়েছে তৃণমূল করেছে। বাম নেতারাই পাহাড়ে উঠতে পারতেন না। এখন পর্যটক উপচে পড়ছে। রেলমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গকে যে ট্রেন দিয়েছেন কস্মীনকালে কেউ করেনি।”