ঋণের বোঝায় জর্জরিত, স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, চন্দননগরে হাড়হিম করা খুনের ঘটনা

কলকাতার ট্যাংরার ভয়াবহ ঘটনার ছায়া এবার চন্দননগরে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে স্ত্রী ও তেরো বছরের মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। বুধবার গভীর রাতে চন্দননগরের কলুপুকুর গড়েরধার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতদের নাম বাবলু ঘোষ (৬২), তাঁর স্ত্রী প্রতিমা ঘোষ (৪৬) এবং তাঁদের একমাত্র মেয়ে পৌষালি ঘোষ (১৩)। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাজার থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করতে না পেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবলু ঘোষ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চন্দননগর থানায় খবর আসে যে কলুপুকুর গড়েরধার এলাকার একটি বাড়িতে একই পরিবারের তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চন্দননগর থানার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত দু’টোর পর মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে চন্দননগর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গিয়েছে, গৃহকর্তা বাবলু ঘোষ একসময় টিনের বাক্সের কারখানায় কাজ করতেন। পরে কিছুদিন টোটোও চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে একটি ছোট দোকান চালাতেন এবং সেখানে সাট্টার প্যাড লিখতেন। প্রতিবেশীদের অনুমান, সাট্টা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ করেছিলেন, যা পরিশোধ করতে না পেরেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, বাবলু ঘোষ প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করেন। এরপর তিনি নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ বর্তমানে মৃতদের আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার মৃতদেহগুলি চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কলকাতার ট্যাংরায় একই পরিবারের চারজনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় দুই ভাই তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তাঁরা সফল হননি এবং পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। চন্দননগরের এই ঘটনা সেই ট্যাংরা-কাণ্ডের স্মৃতিকেই ফের একবার উসকে দিল।

স্থানীয় বাসিন্দা রবি বসাক এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “ওদের ঘরে তালা মারা দেখেছিলাম। আমি দোকানে বসে ফোন করেও সুইচ অফ পাই। এরপর খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির ভেতরে উঁকি মেরে দেখি এই ভয়াবহ অবস্থা। বাবলু ভদ্রলোক খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ওঁর অনেক ধার-দেনা ছিল, কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি খুবই ভালো ছিলেন।” এই ঘটনা চন্দননগরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।