অবিশ্বাস্য! ATM-এ ৪০০ টাকা তুলতে গিয়ে বেরিয়ে এল ৪টি ৫০০ টাকার নোট! এমনও হয় নাকি?

এটিএম থেকে ৪০০ টাকা তুলতে গিয়ে ৪টি ৫০০ টাকার নোট! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে উত্তর পূর্ব দিল্লির একটি এটিএম-এ। আর এভাবেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। অভিনব এই এটিএম জালিয়াতির তদন্তে নেমে পুলিশ স্বয়ং সরষের মধ্যে ভূত খুঁজে পেয়েছে এবং দুই এটিএম কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

কীভাবে ঘটল এই জালিয়াতি?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির হর্ষ বিহার এলাকায় এই এটিএম জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে। এটিএম-এ টাকা লোড করার সময়ই এই কারচুপি করা হয়েছিল। এটিএম-এ সাধারণত বিভিন্ন মূল্যের নোট রাখার জন্য আলাদা ট্রে থাকে। জালিয়াতরা ১০০ টাকার নোটের ট্রেতে ২০০০টি ৫০০ টাকার নোট রেখেছিল এবং ৫০০ টাকার ট্রেতে ১০০ টাকার নোটগুলি রেখেছিল। এখানেই শেষ নয়, ৫০০ টাকার ট্রেটি সামান্য টেনে বের করা হয়েছিল, যাতে তাতে রাখা ১০০ টাকার নোটগুলি আটকে যায় এবং বেরিয়ে না আসে। এর ফলে গ্রাহক ১০০ টাকার নোট তোলার চেষ্টা করলে ৫০০ টাকার নোট বেরিয়ে আসত, আর ৫০০ টাকার নোট তোলার চেষ্টা করলে তা আটকে যেত।

অভিযোগ উঠেছে, ওই দুই কর্মচারীর ১১২ জন পরিচিত এই কারসাজির সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা এটিএম থেকে তুলেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যে কোম্পানি ওই এটিএম-এ টাকা লোড করার দায়িত্বে ছিল, তারা গত ২৯ এপ্রিল ওই দুই কর্মচারীকে ৩১ লক্ষ টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিল। ১ মে যখন কোম্পানির একজন কর্মচারী নগদ লোডিং এবং অডিটের জন্য এটিএম-এ যান, তখনই এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।

কোম্পানি দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে এটিএম-এ ষড়যন্ত্র করে কারচুপি করার অভিযোগ এনেছে। তবে, এক কর্মচারী দাবি করেছেন যে, ভুলবশত ১০০ টাকার ট্রেতে ৫০০ টাকা রেখে দিয়েছিলেন এবং যেদিন কোম্পানি তাঁকে টাকা লোড করতে পাঠিয়েছিল, সেদিন তাঁর শরীর ভালো ছিল না। পুলিশ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা এটিএম পরিষেবা এবং নগদ লোডিং প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।