রাত ৩টের সময় বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিককে খুন, বালুচিস্তানের যুবকদের সঙ্গে ‘নোংরা খেলা’ খেলছে পাকিস্তান!

পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতার দাবিতে বালোচিস্তানের আন্দোলন যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক তখনই বালোচ জনগণের উপর পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়ন এবং অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তান সরকার ‘খুন ও অপহরণের’ মতো ঘৃণ্য পন্থা অবলম্বন করছে বলে বালোচ মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে।
বালোচিস্তানের বিদ্রোহ ও আন্দোলনকে রুখতে পাকিস্তান সরকার অত্যন্ত নৃশংস পথ বেছে নিয়েছে। সাধারণ মানুষ, এমনকি সাংবাদিকদেরও খুন ও অপহরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি বালোচিস্তানের সাংবাদিক আব্দুল লতিফকে পরিবারের সামনে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর এবার বালোচ ইয়াকজেহটি কমিটি (Baloch Yakjehti Committee – BYC) চারজন যুবককে অপহরণের তথ্য সামনে এনেছে।
জানা গেছে, অপহৃত যুবকদের সকলের বয়স ১৭ থেকে ২৪-এর মধ্যে। বালোচ ইয়াকজেহটি কমিটির দাবি, পাকিস্তানের পুলিশ, সেনা এবং আইএসআই (Inter-Services Intelligence) বেছে বেছে কমবয়সী যুবকদের অপহরণ করছে। বালোচিস্তানের আন্দোলনকে প্রশমিত করতেই এই ধরনের টার্গেটেড অপহরণ চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪শে মে বালোচিস্তানের মাস্কে এলাকার সাংবাদিক আব্দুল লতিফকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তান পুলিশ। রাত ৩টের সময় তার বাড়িতে ঢুকে লতিফের ওপর গুলি চালানো হয়, যখন তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি লতিফের পরিবারের অন্য ৮ সদস্যকে সেনা ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে লতিফের ছেলে সাইফসহ সেই ৮ জনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এবার বাড়িতে ঢুকে লতিফকেও খুন করা হলো।
সাংবাদিক খুন, বালোচিস্তানের যুবকদের অপহরণ-খুনের মতো ঘটনাগুলো গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে: বালোচদের আন্দোলনকে ভয় পেয়েই কি পাকিস্তান এমন চরম পথে হাঁটছে? এভাবে তারা কতদিন আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে?
বালোচ মানবাধিকার কর্মীরা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বালোচিস্তানে ‘গুম’ (enforced disappearances), বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং সামরিক বাহিনীর নির্বিচার নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে। তাদের মতে, পাকিস্তান সরকার বালোচিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করছে, সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ করছে এবং স্থানীয় জনসংখ্যাকে প্রান্তিক করে রাখছে। এই ধরনের কার্যকলাপ মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতিসংঘের কাছে ‘গণতান্ত্রিক বালোচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বালোচিস্তানের প্রস্তাবিত জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীন বালোচ রাষ্ট্রের মানচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান’ ব্যাপকভাবে ট্রেন্ড করছে।