চাকরিহারাদের জন্য বড় পদক্ষেপ! কাজ শুরু করল প্রশাসন

এসএসসি (SSC) দুর্নীতির জেরে চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকদের একাংশের আন্দোলন অব্যাহত। বিকাশ ভবনের সামনে আজ তাঁদের ধর্নার ১৯তম দিন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর এবার আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে তাদের ধর্নাস্থল সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন। সেই মতো দ্রুত কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
প্রশাসন সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ধর্নার জন্য ছাউনি তৈরির কাজ শুরু করেছে। চাকরিহারাদের দাবির প্রেক্ষিতে গতকাল রাতেই বিধাননগর পুরসভার তরফে বায়ো টয়লেট বসানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি হলেই তাঁরা বিকাশ ভবন চত্বর ছেড়ে সেন্ট্রাল পার্কে যাবেন।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি সংসদে তুলে ধরার জন্য বাংলার সমস্ত সাংসদকে চিঠি লিখবেন বলে জানিয়েছেন, যেখানে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে তাঁদের আওয়াজ তোলার আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে, চাকরিহারা শিক্ষকরা রাজ্য সরকারকে আগামী সোমবার পর্যন্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যদি সরকারের তরফে কেউ তাঁদের সঙ্গে দেখা না করেন, তবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। আন্দোলনকারী শিক্ষক হাবিবুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আজকে আবার একটা চিঠি দেব শিক্ষামন্ত্রীকে। সোমবার অবধি আমরা অপেক্ষা করব এবং সোমবারের মধ্যে যদি আমাদের সঙ্গে কেউ দেখা না করে, সোমবারের পর আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের মনে হচ্ছে আমাদেরকে এখন নেগলেক্ট করা হচ্ছে, ইগনোর করা হচ্ছে। এটা যদি হয়, তাহলে পরবর্তীকালে আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাব।”
গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেন্ট্রাল পার্কের সামনে চাকরিহারাদের কর্মসূচির অনুমতি দেন। তবে এটি ছিল শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ। বিচারপতি বলেন, একসঙ্গে ২০০ জন লোক নিয়ে অদলবদল করে কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।
আন্দোলনকারীদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের ১০ জন প্রতিনিধির নাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে এবং জমায়েত নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। রাজ্যকে আদালতের নির্দেশ, আন্দোলনকারীদের পানীয় জল, শৌচালয় সহ প্রয়োজনীয় সব বন্দোবস্ত করে দিতে হবে। এখন দেখার বিষয়, সোমবারের ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীরা কী ধরনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।